মাঝে মাঝে তব দেখা পাই

বৌদিমণি গোঁ ধরেছে সীতা হার তার চাই -ই চাই | অগত্যা কবিগুরু বৌদিমণিকে সঙ্গে নিয়ে নিউমার্কেটের উদ্দেশ্যে রিক্সায় চড়ে বসলেন | সাইন্সল্যাবের মোড়ে হঠাৎই লাবণ্যকে দেখতে পেলেন, সম্ভবত বাসের জন্য অপেক্ষা করছে | রিক্সা থামিয়ে কবিগুরু এগিয়ে গেলেন | আগে অফিস থেকে ফেরার পথে লাবণ্য প্রায়শই বাসায় আসত | বৌদিমণি পছন্দ করেন না বলে আজকাল আর আসে না |

কবিগুরু লাবণ্যকে উদ্দেশ্য করে বললেন,  ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না |’

বৌদিমণিকে ইঙ্গিত করে বললেন,  ‘কেন মেঘ আসে হৃদয়-আকাশে, তোমারে দেখিতে দেয় না |’

লাবণ্য স্মিত হেসে কিছু একটা বলতে যাবে এমন সময় রিক্সার বেলের টানা টুং টাং আওয়াজ | বৌদিমণিই যে রিক্সাওয়ালাকে দিয়ে এহেন কম্মটি করাচ্ছে তা কবিগুরু বা লাবণ্য কারোরই বুঝতে বাকী রইল না | ফিরে যাওয়ার সময় লাবণ্যকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
‘ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে তোমায় যবে পাই দেখিতে
ওহে ‘হারাই হারাই’ সদা ভয় হয়, হারাইয়া ফেলি চকিতে |
আশ না মিটিতে হারাইয়া– পলক না পড়িতে হারাইয়া–
হৃদয় না জুড়াতে হারাইয়া ফেলি চকিতে |’

কবিগুরু রিক্সায় উঠে বসতেই বৌদিমণি ভেংচি কেটে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন |

কবি আজ প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠেই কার মুখ দর্শন করেছিলেন তা মনে করার চেষ্টা করছেন | কারন এইমাত্র তিনি মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন, ‘প্রিয়ে, হারটা এখন না কিনলে হয় না ? সামনেই তো পূজো, তখন না হয় নিও | আর ক’টা দিন পরেই বিশ্বকাপ ক্রিকেট, তাই একটি এলসিডি টিভি কেনার বাসনা জেগেছে মনে |’

‘ঈদের দিন দাওয়াতে কি তোমার টিভিটা গলায় পরে যাবো ?’ গরম তেলে জলকণা পড়লে যেমন ছ্যাঁৎ করে উঠে, তেমন করেই প্রত্যুত্তর করলেন বৌদিমণি |

‘হার-ই পরতে হবে এমন কোন কথা আছে ! লাবণ্যকে দেখেছো কখনো গহনা পরতে ? তারপরও বেশভূষায় সবসময় কেমন যেন এক ধরনের স্নিগ্ধতা | তাকালে মনে হয় তাকিয়েই থাকি |’ বলেই কবিগুরু বুঝতে পারলেন মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য ভুলটি করে ফেলেছেন |

‘কি ! তারমানে তুমি আমাকে অপমান করার জন্য এখানে নিয়ে এসেছ | নেব না তোমার টাকায় কিছু | এই আমি চললাম | গতকাল বসুন্ধরা সিটি থেকে যে জামদানিটা কিনেছিলাম আজই সেটা ফেরত দিয়ে আসবো | আর হ্যাঁ, আজ রাতের বেলায় লাবণ্যের স্নিগ্ধ হাতের রান্না খেয়ে এসো |’ বলেই বৌদিমণি নিউমার্কেট গেটের দিকে হাঁটা দিলেন | কবিগুরু প্রমাদ গুণলেন | একবার দাদার বাড়ী চলে গেলে তখন আর শুধু হার–এ কাজ হবে না | তড়িৎ আত্মসমর্পণ করে বললেন,
‘আর-কারো পানে চাহিব না আর, করিব হে আমি প্রাণপণ–
ওহে তুমি যদি বলো এখনি করিব বিষয়-বাসনা বিসর্জন |’

সুর আরও নরম করে বললেন,
‘দিব শ্রীচরণে বিষয়– দিব অকাতরে বিষয়–
দিব তোমার লাগি বিষয়-বাসনা বিসর্জন |’

‘দোকানদারের সামনে অপমান করে এখন আর এসব বলে লাভ নেই | আমি চললাম কল্যাণপুর- বড়দার বাড়ি | আমাকে তুমি আর পাবে না, রবি |’

এবার কাতর সুরে কবিগুরু বললেন,
‘কী করিলে বলো পাইব তোমারে, রাখিব আঁখিতে আঁখিতে–
ওহে এত প্রেম আমি কোথা পাব, নাথ, তোমারে হৃদয়ে রাখিতে |’

‘তোমার মিষ্টি কথায় আর ভুলছিনা আমি | রাস্তা ছাড় | বাই |’ বৌদিমণির পাষাণ উক্তি |

অবশেষে কবি নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে বললেন,
‘আমার সাধ্য কিবা তোমারে–
দয়া না করিলে কে পারে–
তুমি আপনি না এলে কে পারে হৃদয়ে রাখিতে |’

 

ডিসক্লেইমারঃ গানটি আসলে পূজা পর্যায়ের | হঠাৎ করেই মাথায় দুষ্টুমি ভর করায় লিখে ফেলা | আশাকরি রবীন্দ্র অনুরাগীরা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন | 

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই” নিয়ে একটি মন্তব্য

  1. রবিঠাকুর ঠিক কী বলবেন বলতে পারি না, কিন্তু ভালো সাহিত্য স্থান-কাল উৎরে গিয়ে ঠিকই যুগ যুগ টিকে থাকে । কবির এই সুন্দর জিনিসগুলোকে ঠিক কেমন কেমন করে যেন আপনি ধরে ফেললেন আপনি । বাতাসে ভাসছিল? নাকি মাথায় ঘুর ঘুর করছিল?

মন্তব্য করুন