অদ্ভুতুড়ে গল্প

সকালঃ-৯.৩৭
সকালে ঘুম থেকে উঠে দাত ব্রাশ করতে করতে হাঁটছিলাম । হঠাৎ ক্যালেন্ডারের দিকে চোখ পড়তেই  খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম । চোখ বড় বড় করে দেখলাম ক্যালেন্ডারে  লেখা  আছে আজ ১৪ই ফেব্র“য়ারী । অথচ আমি তা বেমালুম ভুলে বসে আছি!আজকের দিনটি যে আমার জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ তা আমি আপনাদেরকে ব্যাখা করেও বুঝাতে পারব না । আজকে আমার জীবনের একটা বড় পরিবর্তন  ঘটতে চলেছে । আজ আমি আমার প্রিয়জনকে কাছে পেতে চলেছি । কোনমতে দাত ব্রাশ শেষ করে এক কাপ চা আর দুটো টোস্ট দিয়ে ব্রেকফাস্ট শেষ করলাম । মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঘওঝও লেখা নাম্বারটা বের করলাম । ও হ্যাঁ, আপনাদেরকে তো নিশি সম্পর্কে বলাই হয় নি । নিশি আমার……কি বলব……গার্লফ্রেন্ড, প্রেমিকা ঐ আপনারা যা বলেন আরকি । বেশিদিন হয় নি আমাদের এ সম্পর্কের, দু মাসের কাছাকাছি হবে । ওকে আমি কতটা ভালবাসি বলতে পারব না তবে ও আমাকে খুব ভালবাসে । আমার সম্পর্কেও আপনাদের কিছু জানিয়ে রাখি । আমি এক অখ্যাত ভার্সিটিতে পড়ি । মিরপুরের কাছেই একটা ছোটখাট এই মেসটায় থাকি । এই মেসে থাকার একটা কারন আছে । আশেপাশের অন্যান্য বাসার তুলনায় এটার ভাড়া কম । যতটুকু জানি এই বাসা সম্পর্কে গুজব আছে যে বহু আগে নাকি একজন তান্ত্রিক থাকত । সে নাকি কিসের উপাসনা করতো । একদিন তার লাশ এই বাসায় পাওয়া যায় । পরে সবাই বলাবলি করতো ঐ তান্ত্রিকের আত্মা নাকি এই বাসায় ঘুরে বেড়ায় । তাই ভুত-প্রেতের ভয়ে এ বাসায় কেউ ভাড়া থাকত না । আমি আর আমার এক বন্ধু জাফর মিলে এই বাসাটায় থাকা শুরু করলাম । জাফর ৪-৫ দিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে গেছে । তাই বাসাটায় বর্তমানে আমি একাই আছি । নিশিকে কল দিলাম । দু বার রিং হতেই কল ধরল নিশি ।
-হ্যালো, নিশি কেমন আছ?
-ভাল, তুমি?
-আমি ভালই…
-নিশি?
-বল?
-আজকে ৭ টার দিকে আমার বাসায় আসতে পারবা?
-কেন?
-না, মানে…তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ ছিলো…
-মানুষ এই দিনে ঘুরতে প্রিয়জনকে নিয়ে বাইরে যায় আর তুমি… ।
-আমি আজকের দিনটা একটু অন্যভাবে সেলিব্রেট করতে চাচ্ছি ।
-সেটা না হয় বুঝলাম, কিন্তু ৭ টায়?ঐ সময় তো সন্ধ্যা হয়ে যায় ।
-একটা দিনের জন্যেই তো আবদার করছি, প্লিজ…আসো না…
-আচ্ছা বাবা, ঠিক আছে আমি আসবো…খুশি তো?
-দেরি করোনা যেন?আচ্ছা রাখি তাহলে ।
যাক আমার কাজের ১ম পর্ব শেষ । এবার সবকিছু ভাল করে সাজাতে হবে । অনেক কাজ বাকি আছে করার মত ।

সন্ধ্যাঃ-৭.১১
ও আসার আগেই সব কিছু ভালভাবে গুছিয়ে নিতে পেরেছি । সারপ্রাইজটা ও দারুনভাবে উপভোগ করবে । ওই তো কলিংবেল বেজে উঠলো । বোধহয় নিশি চলে এসেছে । আমি তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে দরজার আড়ালে এমনভাবে দাড়ালাম যেন দরজা খুলে দিলেও ও আমাকে দেখতে না পায় । যা ভেবেছিলাম তাই হল, ও আমাকে দেখতে না পেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল । আমিও দেরি না করে আমার হাতে থাকা চেলাকাঠটি দিয়ে ওর মাথায় সজোরে আঘাত করলাম । আঘাতের প্রায় সাথে সাথেই
ও মাটিতে লুটিয়ে পড়লো । আমি তাড়াতাড়ি আমার অন্য হাতের দড়ি দিয়ে ওর হাত আর পাগুলো বেধে ফেলতে লাগলাম । ও হুশে ফিরে আসার আগেই আমার উদ্দেশ্য হাসিল করতে হবে । ও বাসায় আসার বেশ কয়েকদিনের মাথায় আমি একটি ছোট গুপ্তরুম আবিষ্কার করি । রুমটি কিচেন রুমের পাশেই । কিন্তু চুলার পাশে থাকা ছোট একটি সুড়ংগ দিয়ে ঐ রুমটিতে যেতে হয় । তাই হয়ত কারও চোখে পড়েনি । রুমে ঢুকার পর বুঝতে পারলাম এটাই সেই কথিত তান্ত্রিকের ঘর । আমার মেসের বন্ধু যখন বাসায় থাকতো না তখন আমি ওই রুমে যেতাম । রুমে থাকা বই-পুস্তক ঘাটাঘাটি করে জানতে পারলাম লুসিফার ওরফে শয়তানের উপাসনা স¤পর্কে । ব্যাপারটা ভাল লাগায় তখন থেকে শুরু করেছিলাম লুসিফারের উপাসনা । কিন্তু লুসিফারকে তো আর এভাবে সন্তুষ্ট করা যায় না । তাই ওর জন্য জীবন্ত উপহার প্রয়োজন ছিলো । আর সে উপহারটাও দিতে হয় একটা নির্দিষ্ট দিনে…………পূর্ণিমার দিনে । তবে এ ব্যাপারটা অদ্ভুত যে আজকের দিনটা ১৪ই ফেব্র“য়ারি এবং একই সাথে পূর্ণিমাও । ওহ হো দেরি হয়ে যাচ্ছে তো…… । নিশির দেহটাকে ঠেলে রুমের ফ্লোরে আঁকা পঞ্চভুজের উপর নিয়ে এলাম । রুমের চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম । শ’খানেক মোমবাতির আলোয় এবং নানা রকম তন্ত্র মন্ত্রের মাঝে বেশ ভালোই লাগছে আমার । একি এই মুহূর্তে আবার কে কল দিল । কল রিসিভ করলাম ।
-হ্যালো, দোস্ত আমি জাফর….আমি ঢাকা চলে আসছি ।
-কিরে তুই না বললি আরও কয়েকদিন পরে আসবি?
-হ, দোস্ত কিন্তু কাজ শেষ তাই চলে আসলাম ।
-ও
-এতবার কলিংবেল বাজালাম দরজা খুলতেছস না কেন?
-ও, আচ্ছা শুনি নাই । দাড়া আসতেছি ।
কল কেটে দিয়ে চেলা কাঠটা তুলে নিলাম । দুটো ঊপহার পেয়ে প্রভু লুসিফার নিশ্চয়ই আরও বেশি খুশি হবেন । আজ প্রভু লুসিফার আর আমার স¤পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে । এগিয়ে যেতে থাকলাম দরজার দিকে…………. । এতটুকু লেখার পরে ডায়রীতে এর কিছু লেখা নেই দেখে বেশ অবাক হলেন নাজমুল সাহেব । ডায়রীর বাকি পাতা গুলো উল্টেপাল্টে দেখলেন । নাহ এর বেশী একটা অক্ষরও লেখা নেই । খানিকটা বিভ্রান্ত দেখাচ্ছে তাকে । ”ধুর!এরকম কি সত্যি সত্যি হতে পারে নাকি?”নাজমুল সাহেব নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন । যদিও বিশ্বাস করে ফেলেছেন ঘটনাটা । বাইরে থেকে মাগরিবের আযান শোনা যাচ্ছে । মাথার উপরের মরচে ধরা ফ্যানের বাতাসে বেশ ঘামছেন তিনি । প্রচন্ড পিপাসা পেয়েছে তার । পানির গ্লাস আনতে রান্নাঘরে যেতে হবে মনে পড়ায় কেমনজানি একটু ভয় হতে লাগলো । ভয় কমানোর জন্য ডায়রীটা রেখে বিছানা ছেড়ে উঠে এলেন । তারপর টিভির সুইচ অন করে ভলিউম বাড়িয়ে দিলেন । ভয় একটু কমতেই পানির গ্লাস আনতে রান্নাঘরে গেলেন তিনি । কিন্তু বিধি বাম পানির গ্লাস নিয়ে টিভি রুমের উদ্দেশ্যে যেই হাটা দিয়েছেন অমনি লোডশেডিং হল । নাজমুল সাহেব ভয়ে অনেকটা জমে গেলেন । অন্ধকারের মাঝে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না । গ্লাসটা কোনমতে মেঝেতে রেখে রান্নাঘরের কাবার্ড হাতড়াতে শুরু করলেন । একটা ম্যাচ খুজে পেলেন কিছুক্ষনের মধ্যেই । পরপর দুটো কাঠি ভেঙে ৩নং কাঠিটা জ্বলে উঠলো । কাবার্ডে আবার হাত দিতেই পেয়ে গেলেন একটা ছোট মোমবাতি । সেটা জ্বালিয়ে টিভিরুমে এসে বসলেন । আর বিড়বিড় করে শফিককে অভিশাপ দিতে থাকলেন । গুলিস্তানের ঘিঞ্জি এক দু’রুমের বাড়িতে নাজমুল আর শফিক সাহেব দুই বন্ধু থাকেন । বাড়িটি মূলত নাজমুল সাহেবের এক দুঃস¤পর্কের বড়লোক চাচার । নামমাত্র ভাড়া দিয়ে এখানে থাকেন নাজমুল এবং শফিক সাহেব । নাজমুল সাহেব এক কো¤পানীতে কেরানির চাকরি করেন । আর শফিক সাহেব চাকরীপ্রার্থী । নাজমুল সাহেব মোটামুটি ভালো মানের বেরসিক মানুষ । আর শফিক সাহেব তার উল্টো । প্রচন্ড হাসিখুশি ধরনের মানুষ । বই পড়তে দারুন ভালবাসেন । তাই মাঝে মাঝেই নীলক্ষেতের ওদিকে যান বই-টই দেখতে । গতকাল বিকেলে শফিকের হাতে একটি ডায়রি লক্ষ্য করেন নাজমুল সাহেব । আজ অফিস থেকে ফিরে কৌতুহলবশত ডায়রীটি নিয়ে ওলটাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরোটা পড়েই ফেললেন । নীলক্ষেত থেকেই বোধহয় আগমন ঘটেছে এ ডায়রীটির ভাবেন নাজমুল সাহেব । সাথে সাথে আরও একটা চিন্তা মাথায় উকি দেয়, ”শফিক আবার এসব ব্যাপার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করবে নাতো?”এর আগে একবার প্ল্যানচেট স¤পর্কে বই আনার পর সেটা নিয়ে আগ্রহী হয়ে যা করেছিল ভাবতেই গোটা গায়ে শিহরণ বয়ে গেল নাজমুল সাহেবের । তাকে মিডিয়াম বানিয়ে প্ল্যানচেট শুরু করেছিল শফিক । এবার যদি আবার………নাহ আর ভাবতে পারলো না নাজমুল সাহেব । শফিক ডায়রিটা এখনো পড়েনি এ ব্যাপারে নাজমুল সাহেব নিশ্চিত নয়তো এতক্ষন ও কিছু না করে থাকত নাহ । ডায়রীটা কোনভাবেই শফিকের হাতে ২য় বার পড়তে দেয়া যাবে না । এমন সময় টোকা পড়ে দরজায় । নাজমুল সাহেব উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন । শফিক ভিতরে ঢুকেই হাত-মুখ মোছার জন্য বাথরুমে চলে গেলেন । আর নাজমুল সাহেব তার অফিসের কিছু কাগজপত্র ঠিক করতে ব্যাস্ত হয়ে গেলেন । এর পর আর এ ডায়রী নিয়ে তাদের মধ্যে কোন কথা হল না । শফিকও এ ব্যাপারে কোন কথা তুলল না ।


রাতে খাবারের টেবিলে ডায়রীর ব্যাপারটা নাজমুল সাহেবই আগে তুললেন ।
-হ্যা রে, তুই যে কালকে একটা ডায়রী এনেছিলি……কোথায় পেয়েছিলি ওটা?
-ও আচ্ছা, আমি তো ডায়রীটার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম……দে তো ওটা রাত্রে শুয়ে শুয়ে পড়ব…
-আগে আমার কথার জবাব দে……কই পেয়েছিস?
-কোত্থেকে যেন পেলাম…হুম……হ্যা…মনে পড়েছে…গতকাল বিকেলের দিকে নীলক্ষেত গেছিলাম কিছু ভুতুড়ে টাইপের বই কিনতে । একটা দোকানে বই দেখছিলাম হঠাৎ দোকানদার বলল, ”সারাজীবন তো বানাইন্না ভূতের গল্প পড়লেন । আসল ভূতের গল্প পড়বেন?”আমি বললাম, ”মানে?””আমার কাছে একটা অন্য ধরনের জিনিস আছে । এগুলা সবাইরে দেখাইও না আফনে প্রায়ই বই কিনতে আসেন তাই……”, দোকানদার বলল । বুঝলাম জিনিসটার দাম বাড়ানোর জন্য ভণিতা করছে । বললাম, ”আগে তো দেখাবা, না হলে বুঝবো কি করে যে জিনিসটা অন্যরকম?”আমাকে দোকানে বসিয়ে রেখে দোকানদার কোথায় যেন গেলো । কিছুক্ষেনের মধ্যে আবার হাজির হলো একটা পুরানো চামড়া দিয়ে বাধাই করা মাঝারী সাইজের একটা ডায়রী নিয়ে । আমি তো দেখে পুরা ফিট কিন্তু মুখে সেটা প্রকাশ করলাম না । বললাম, ”এ আর এমন কি জিনিস?”দোকানদারকে কিছুটা আশাহত মনে হল । ”তাইলে আফনে নিবেন না?”, বলল দোকানদার । ”আহা আমি সেটা বলছি?দাম কত সেটা বল?”, বললাম আমি । হাত কচলাতে কচলাতে সে বলল, ”বেশী না ৩০ টাকা দিয়েন । ”এইটুকুন ডায়রী দাম ৩০ টাকা!”, আতকে উঠার ভান করলাম । পড়ে দরাদরি কওে ২০ টাকায় কিনে আনলাম ।
-ও!
-ডায়রীটা দিলি না……?
-ডায়রীটা আমি ফালায়া দিছি ।
-সেকি…কেন?
-না ওই ডায়রী তুই পড়তে পারবি না ।
-ভাই, তোর সমস্যা কি?
-আমি বলছি না…দিবো নাহ ।

হাল ছেড়ে দেয়ার ভান করল শফিক । যদিও জানে ডায়রীটা নাজমুলের কাছেই আছে এবং সুযোগ মত হাতিয়ে নেবে । তাই সে আর কথা বাড়াল না । খাবার শেষে যে যার মত উঠে চলে গেলো । দুটি রুমের একটাতে নাজমুল সাহেব ও অপরটিতে শফিক শোয় ।


রাত ১২ টার দিকে বিছানা ছেড়ে আস্তে আস্তে উঠে এল শফিক । টর্চ হাতে নিয়ে নাজমুলের রুমের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে লাগলো । মনে মনে হাসছে সে । নাজমুল হারামজাদা যে ডায়রীটা কই রাখতে পারে তার স¤পর্কে ধারনা রাখে সে । নাজমুলের পড়ার টেবিলের দিকে এগুলো । ওটার নিচে এক প্রান্তে থাকা কাগজের বাক্সটি আস্তে করে তুলে নিজের রুমে নিয়ে এলো । বাক্সটা খুলতেই শফিকের মুখে দেখা গেলো হাসির ঝিলিক ।


রাত তখন প্রায় ১.১৫ বাজে । শফিককে বেশ তৃপ্ত মনে হল । টর্চ লাইটের আলোতেই একটানে পুরো লেখাটা পড়ে শেষ করেছে । আইডিয়াটা খারাপ লাগেনি তার । ভালোই তো ভাবল সে । তারপর আবার রওনা হল নাজমুলের রুমের উদ্দেশ্যে………পা টিপে টিপে নাজমুলের রুমের সামনে এসে দাড়াল শফিক । হাতে বাক্স, তার ভিতর ডায়রীটি । হঠাৎ কি মনে করে আবার নিজের রুমের দিকে গেলো । প্রায় সাথে সাথেই ফিরে এল সে তবে একলা নয়…হাতে রয়েছে একটি পেন্সিল কাটার ছুরি!ডিম লাইটের আবছা আলোয় নাজমুল সাহেবকে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দেখে স্মিত একটা হাসি দিল শফিক । শফিক তার রুমের দিকে এক পা বাড়িয়ে দিতেই নাজমুল সাহেব ঘুমের মধ্যেই কেমন যেন একটু নড়েচড়ে উঠলেন । নাজমুল সাহেবের ভাবগতিক সুবিধার না দেখে শফিক দ্রুত নিঃশব্দে রুমের পাশের দেয়ালে গা ঢাকা দিলেন । তার ধারণাই সঠিক । কিছুক্ষেনের মধ্যেই নাজমুল সাহেব বিছানা থেকে উঠে লাইট জ্বালিয়ে টয়লেটের দিকে রওনা হলেন । ”ধ্যাত”, নিজেকে গালি দিল শফিক । টয়লেটটা নাজমুল সাহেবের রুমে এবং আরও একটা বড় সমস্যা হল নাজমুল সাহেব টয়লেটের দরজা লাগাননি । তাই শফিক ভিতরে ঢুকলে নাজমুল সাহেব যে তাকে দেখে ফেলবেন এ ব্যাপারে নিশ্চিত । তাই শফিক কিছু করতে পারছিলো না । অনেক্ষন দাড়িয়ে থাকতে থাকতে পায়ে খিল ধরে গেলো তার । তাই বাধ্য হয়ে নিজের রুমে ফিরে এলো শফিক । লাইট নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল ।


বেশিরভাগ সময়েই সকালে ঘুম থেকে আগে উঠে যান নাজমুল সাহেব । আজকেও তার ব্যাতিক্রম হলো না । ৬.২৩ এর দিকে তার ঘুম ভাঙল । কালকে রাত্রে তার ঘুম আসতে একটু দেরী হচ্ছিল । তাই যখন শফিক এসেছিলো তখন ঠিকই শফিকের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিলেন । তিনি শুধু চুপচাপ শুয়ে ছিলেন । কিন্তু নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হল যখন দেখলেন শফিক একটা ছুরি নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে । রুমে আলো কম থাকায় নাজমুল সাহেবের জেগে থাকার বিষয়টা শফিক বুঝতে পারে নি । তাই বিছানা থেকে টয়লেটে যাবার ভান করেছিল । বুঝতে বাকি রইল না যে শফিক ডায়রীটা পড়ে অনুপ্রানিত হয়েছে । সাত সকালে মেজাজ মর্জি খারাপ হয়ে গেল । এক অজানা আশংকায় তার বুক কেপে উঠলো । নিজেকে অভিশাপ দিতে দিতে প্রাত্যহিক কাজগুলো সারার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলেন । বাহিরে কিছুক্ষন জগিং করা, খালিপেটে এক-আধ কোয়া রসূন খাওয়া এ জাতীয় আরও কয়েকটি বিষয় তার প্রাত্যহিক কাজের অন্তর্গত । জগিং শেষ করে ফিরে এসে দেখেন শফিক বিছানায় নেই । বাথরুমের পানির আওয়াজে নিশ্চিত হলেন যে শফিক টয়লেটেই আছে । তিনি শফিক না ডেকেই চেয়ারে বসে দোকান থেকে কিনে কলা আর পাউরুটি গিলতে থাকেন । কিছুক্ষনের মধ্যেই শফিক বেড়িয়ে এল । এসেই কলা আর পাউরুটি থেকে খানিকটা ছিড়ে নিয়ে নাজমুল সাহেবের সামনে রাখা আরেকটি চেয়ারে বসল । নাজমুল সাহেবের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে পারলে তিনি এখন শফিককে চিবিয়ে খান ।
-শফিক?
-হ্যাঁ ।
-আমাকে একটা সত্যি কথা বলবি?
-কি?
-তুই ওই ডায়রীটা পড়ছস, না?
-কোন ডায়রীটা?
-দেখ, না বোঝার ভান করবি না…আমি ঠিকই জানি যে তুই ডায়রীটা পড়ছস…
-পড়লে সমস্যা কি?
-আমি তোরে পড়তে মানা করছিলাম না?
-ডায়রীটা তো আমিই আনছি, নাকি?
-আচ্ছা, এখন শান্তি হইছস তো…
আর কোন কথা বলার মুডে ছিলেন না নাজমুল সাহেব । রাগে দাত কিড়মিড় করতে করতে উঠে চলে গেলেন । অফিসে যেতে হবে তাকে । আর তাকে কি করতে হবে সেটাও ঠিক কওে ফেলেছেন । এখন থেকে এ বাসায় আর থাকবেন না । অফিসের কোয়ার্টারে একটা রুম নিয়ে থাকবেন । যাবার আগে শফিককে বলে দিলেন সেকথা । শফিক এর কারন জিজ্ঞাসা করলে কিছুই বললেন না । ঘরে থাকা বাকি জিনিসপত্র বিকেলে এসে নিয়ে যাবেন । শফিকও কিছু বলল না । কারন সে তখন অন্য একটা বিষয় নিয়ে চিন্তিত ।


এই চার-পাচ দিন বেশ ভালোভাবেই কাটল নাজমুল সাহেবের । যে দুঃশ্চিন্তা তিনি করতেন তা দূর হয়েছে । তবে মাঝে মাঝে রাতে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে পান । দেখতে পান যে তিনি এক অদ্ভুত জগতে আছেন খাওয়ার কোন অভাব নেই । কয়েকজন হুরপরী তার মুখে মাংস জাতীয় একটা খাবার তুলে দিচ্ছে । কিন্তু খাবারটার মধ্য থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছে । তাই মুখে দেয়ার সাথে সাথে তার ঘুম ভেঙে যায় । ঘুম ভাঙার পর তার প্রচন্ড ঘাম হয়, পিপাসা পায় । খানিকটা ভয় ভয় ও করে । এই ভাবেই আবার ঘুমিয়ে পড়েন । তার যতটুকু সন্দেহ ডায়রিটা পড়ার কারনে এমন হচ্ছে । সেদিন ছিল শুক্রবার । ২.১৫ এর মত বাজে । অফিস ছুটি তাই নাজমুল সাহেব বাসায় বসে টিভি দেখে অলস সময় কাটাচ্ছেন । এমন সময় তার মোবাইলে কল আসলো । মোবাইলটা বিছানা থেকে দূরে তাই সেটা নেয়ার জন্য তাকে উঠতে হল । মোবাইল স্ক্রীনে নামটা দেখে তার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল…শফিকের কল । কল রিসিভ করলেন তিনি ।
-হ্যালো
-কল ক্যান দিছস?
-দোস্ত, তোর সাথে ই¤পরটেন্ট কথা আছে ।
-আমার তোর সাথে কোন কথা নাই……
-দোস্ত প্লিজ বুঝার চেষ্টা কর……
-তুই বুঝার আর কি বাকি রাখছস?
-ক্যান আমি কি করছি…ডায়রীটা পড়ছি এই তো?
-শুধু ডায়রী……তুই আমারে মারার জন্য ছুরি নেস নাই?
-কই…কখন…কি বলতেছস?
-ক্যান, ওই দিন বই পড়া শেষে তুই আমার রুমে তোর পেন্সিল কাটার ছুড়ি নিয়া আসস নাই…?আমি তখন জেগে ছিলাম ।
-ও দোস্ত ওই ঘটনা…আরে আগে আমার কথা শুন…
-না, তুই আমার রুমে ছুরি নিয়ে আসছোস কিনা আগে ওইটা বল?
-হ, আসছিলাম । কিন্তু কি কারনে আগে ওইটা শোন । আমার রুমের মশারীর দড়ি ছিড়া গেছিলো । আমার রুমে ত কোন দড়ি ছিলো না তাই তোর রুমে আনতে গেছিলাম ।
-তাইলে আমারে টয়লেটে যাইতে দেইখা লুকাইলি ক্যান?
-আরে দোস্ত আমার আরেক হাতে ডায়রিটা ছিলো । তুই যদি ডায়রীটা দেখস তাইলে মাইন্ড করতে পারস । এই জন্যে আমি দেখাইতে চাই নাই…তাই পরে মশারী ছাড়াই ঘুমাইছি
-হুম…
ব্যাপারটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও সন্দেহ হতে থাকল । মন মানতে চাইল না । তবু সে চুপ করে থাকল ।
-কি…এখনো বিশ্বাস হয় না?
-না…ইয়ে…মানে ।
-দোস্ত সিরিয়াসলি তোর সাথে ই¤পরট্যান্ট কথা ছিল ।
-মোবাইলে একটু বলতে পারিস না কি ব্যাপারে?
-বলতে তো পারব কিন্তু শুনলে তুই আসবি কিনা…তাই ।
-বলেই দেখ ।
-দোস্ত ওই ডায়রিটার ব্যাপারে…
-দেখ তুই এটা নিয়ে আবার ভজঘট পাকাবি না…
-না…না আমি শুধু দেখতে চাইছি যে ঘটনাটা সত্যি কিনা ।
-তো এর জন্য তুই আমাকে কি করতে বলিস?
-না দোস্ত, তোকে কিছু করতে হবে না…তুই আর আমি মিলে জায়গাটা একটু পরিদর্শন…
-এ কাজ তো তুই একলাই করতে পারিস ।
-আসলে সত্যি কথা বলতে কি ডায়রীর ঘটনাটা আমারও তেমন একটা বিশ্বাস হয় নি । আর তুই তো এসবে বিশ্বাসই করস না । তবু ভীষন ভয় আমি পাইছি আর তুইও কম পাস নাই আমার যতটুকু ধারনা । নয়তো সেদিন রাতে আমারে দেখে ভয় পাইতি না । আর তুই ডাইরীটা পইড়াও ভয় পাইছিলি । নয়তো আমারে পড়তে বারণ করতি না ।
-যা, ধরে নিলাম আমি ভয় পাইছি ।
যদিও ভয় পেয়েছিলেন মুখে তা স্বীকার করতে নারাজ নাজমুল সাহেব ।
-তাই আমি আর তুই মিলে ওই জায়গাটা একটু পরীক্ষা কওে আসলেই তো হয় । হয়ত গিয়ে দেখা যাবে পুরোটাই একটা বানানো গল্প…… । আমি চাচ্ছি ব্যাপারটা যে ভুয়া সেটা প্রমান করতে । যদি একবার প্রমান করতে পারি তবে কিন্তু আমাদের এ ভয় অনেকটুকু কমে যাবে ।
-আর যদি সত্যি হয়?
-ফান করছিস নাকি?ডায়রীটা দেখে ৪০-৩০ বছরের কম পুরোনো বলে মনে হয় না । তোর কি ধারণা ওই সাইকোটা এখোনো বেঁচে আছে?বাসায় গেলে ওটা আমাদের বলি দেয়ার দেয়ার ব্যাবস্থা করবে?কাম অন ম্যান, বাস্তবিক কথাবার্তা বল । আর এই চান্সে ঘুরাটাও হয়ে যাবে । কি…যাবি না?
-দেখি…
-আবার কি দেখি টেখি বলছস?এরকম অ্যাডভেঞ্চার আর হবে না বলে দিলাম…
-বললাম তো দেখি ।
-আচ্ছা আমি আর কথা বাড়াব না । আমি গুলিস্তানেই সেলিম চাচার দোকানে আছি । গেলে এক ঘন্টার
মধ্যে আসিস আর…
কল কেটে দিলেন নাজমুল সাহেব । শফিক বড় বেশী কথা বলে । চিন্তায় পড়ে গেলেন তিনি । এটা শফিকের নতুন কোন চালাকি নয়তো…হয়ত তাকে নিয়ে… । কি সব আবোল তাবোল ভাবছেন তিনি । শফিক তার কলেজ জীবনের বন্ধু । আর ভয় কমানোর আইডিয়াটা তো খারাপ নাহ । কিন্তু, কি গ্যারান্টি আছে যে ও ছুরির ব্যাপারে সত্য কথা বলেছে । বড় ধরনের দ্বিধায় পড়ে গেলেন । বুঝতে পারছেন না কি করবেন । নাহ শেষ পর্যন্ত কৌতুহলের  কাছে হার মানতে বাধ্য হলেন নাজমুল সাহেব । কারন তাতে যদি ভয়টা একটু কমে ক্ষতি কি? রোজ রোজ একই দুঃস্বপ্ন দেখতে কারো ভাল না লাগারই কথা । তবে শফিকের কাছ থেকে সতর্ক থাকার ব্যাপারটা ভুললেন না তিনি । ওই বাড়িতে সাইকো না থাকলেও সাইকোর আÍা যে ঘুরে বেড়াচ্ছে না এটার  তো কোন গ্যারান্টি নেই! কোথায় যেন একবার শুনেছিলেন যে ভুতেরা লোহা জাতীয় জিনিসকে ভয় পায় তাই সাথে করে একটা ছোট ছুরি নিয়ে নিলেন । তাছাড়া উল্টাপাল্টা কিছু হলে শফিকের উপর ও প্রয়োগ করা যেতে পারে ভাবলেন তিনি । গায়ে হাল্কা একটা কমলা রঙের একটা গেঞ্জি এবং কালো রঙেরএকটা পেন্ট পড়ে নিলেন । সাথে মোবাইল আর ছুরিটা নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে এলেন । শফিকের কাছে পৌছুতে হলে রিকশায়করে এখান থেকে ৫ মিনিটের পথ । তাই সবচেয়ে কাছে থাকা রিকশাটাকে ডাকলেন । রিকশা চালকের সিটে ৮-৯ বছর বয়সী একটা ছেলে বসা । ছেলেটা অকারনে হাসছে ।

-এই পোলা, গুলিস্তান যাবি?
-হ, যামু ।
-ভাড়া কিন্তু ৫ টাকা?
-আইচ্ছা, ঠিক আছে ।

হঠাৎ করেই ছেলেটার উপর সন্দেহ হতে থাকে নাজমুল সাহেবের । ছেলেটা অকারনে হাসছে কেন?ব্যাপারটা ভাল মনে হল না তার । হালকা ভয়ের অনুভুতি তাকে ¯পর্শ করল । দ্রুত স্থান ত্যাগ করে অন্য আরেকটি রিকশা খোঁজায় ব্যাস্ত হলেন ।
-স্যার, কইলাম তো ৫ টেকায় যামু ।
-আমি তোর রিকশায় যামু না ।
-ক্যান স্যার, আমি কি দোষ করছি?
-আমি যামু না একবার বলছি না? শুনস নাই?
মেজাজটা চড়ে গেছে নাজমুল সাহেবের । আর কথা না বাড়িয়ে বুড়ামত একজন রিকশাচালককে ডেকে নিয়ে তার রিকশাতে উঠে বসলেন । বুঝতে পারছেন না আসলে কি একটু বেশীই বাড়াবাড়ি করছেন না তো?”নাহ, কোন প্রকার রিস্ক নেয়া যাবে না”, এই ভেবে নিজেকে বোঝালেন ।


পাক্কা এক ঘন্টা ধরে শফিক সেলিম চাচার দোকানে বসে আছে । এই পর্যন্ত ৫ টা সিগারেট ধরাল কিন্তু নাজমুলের কোন দেখা নেই । আধপোড়া সিগারেটের টুকরোটা ফেলে পুরোপুরি হতাশ হয়ে চলে যাবে এমন সময় নাজমুলকে দেখতে পেল । নিজেই নিজেকে বলল, ”যাক কাজ হয়েছে তাহলে । ”নাজমুল সাহেব রিকশা থেকে নেমে পকেটে হাত দিয়ে খেয়াল করলেন যে মানিব্যাগ আনতে ভুলে গেছেন! নাজমুল সাহেবের মুখের ভাবভঙ্গি দেখেই শফিক বুঝে নিয়েছে যে ঘটনাটা কি । মৃদু হেসে তিনি রিকশাওয়ালার হাতে ৫ টাকার একটা নোট দিয়ে দিলেন ।

-কিরে, শেষ পর্যন্ত তাহলে তোকে আসতেই হলো?

শফিকের মুখে হাসির ছাপ ¯পষ্ট । নাজমুল সাহেব এর কোন উত্তর দিল না । উল্টো প্রশ্ন করল ।
-তুই না বললি কোথায় যাবি……
-আরে এই মাত্রই তো আসলি । একটু বস, দুকাপ চা খাই……
-চা পরেও খাওয়া যাবে কিন্তু যে কাজ করতে এসেছি সেটা আগে শেষ করি ।
-ওরে বাবা, আমার চেয়ে দেখি তোর গরজ বেশী!
-দেখ, ফাইজলামি করবি না গেলে চল আর না গেলে আমি ফেরত যাই…
-দাড়া…দাড়া…আহহা আমি কি যামু না বলছি?
-তাহলে চল ।
-দাড়া, আগে একটা ট্যাক্সি ডাকি ।
-ট্যাক্সি? এখান থেকে কতটুকু দূরে?
-বেশী না আধঘন্টার মত লাগে । একদিন একটু করে গেছিলাম কিন্তু বাসাটাই যাই নাই ।

শফিক একটা ট্যাক্সি ডেকে তারমধ্যে নাজমুলকে নিয়ে উঠল । নাজমুলের কেমনজানি একটু অন্যরকম করা চোখ এড়ায়নি শফিকের । বুঝতে পারল শফিক যে নাজমুল তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে নি । যেতে যেতে যেটুকু কথাবার্তা হল সেগুলো অনেকটা এরকম ।

-আচ্ছা, তুই ওই বাড়ির ঠিকানা কই পেলি?
-এটা তো খুবই সোজা । প্রথমে মিরপুরের ওদিকে গেলাম । তারপর তান্ত্রিকের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতেই তারা বলে দিল । তুই তো জানিস এই দেশে বাতাসের আগে এসব খবর ছড়ায় । বলে নাজমুলের দিকে চাইল শফিক । ওর চাহনিটা তেমন একটা ভাল মনে হল না নাজমুল সাহেবের কাছে । শফিক এভাবে হাসছে কেন?বড় ভয় হচ্ছে তার । ডান পকেটে হাত ঢুকিয়ে ছুরিটার ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন ।


-আরে, এটাতো কোন ভূতুড়ে বাড়ি হতেই পারে না ।

যে বাড়িটার সন্ধানে তিনি এবং শফিক এসেছেন সেটার সামনে দাড়িয়ে কথাগুলো বললেন নাজমুল সাহেব । ভিতরে ভিতরে ভয় পেলেও তিনি সেটা বুঝতে দিচ্ছেন না । ভয় কমানোর উদ্দেশ্যেই মূলত উপরের কথাগুলো বলা । মাগরিবের আযান শোনা যাচ্ছে । তার মানে ৭ টার কাছাকাছি বাজে । জ্যামের কারনে আসতে ওদের অনেকটা দেরী হয়ে গেছে ।

-দেখ বেশি খুশি হোস না……শুনেছি এই এলাকায় নিখোজহওয়ার ঘটনা ঘটে ।

মজা করে নাকি সিরিয়াসলি শফিককথাগুলো বলল বোঝার উপায় নেই নাজমুল সাহেবের । মুখ কাল করে ফেললেন তিনি ।

-ভি…ভিতরে যাবি, শফিক?
-এতদূর এসেছি কি শুধু শুধু ফিরে যাওয়ার জন্য?
-আরে ভয় পাওয়ার কিছু নেই…চল তো ।

বাড়িটা থেকে ভয় আছে কিনা তা জানে না নাজমুল সাহেব । কিন্তু শফিকের প্রতি ওর ভয়টা ক্রমাগত বেড়ে উঠছে । ডান পকেটে হাতটা শক্ত করে রাখল ।

-আচ্ছা শফিক আশেপাশে বাড়িঘরগুলো কেমন যেন মড়া মড়া লাগছে…
-তুই কি সত্যি সত্যি…
-আমার কথা কি মিথ্যা?
-অনেকদিন রঙ না করলে যেকোন  বাড়িরই এ অবস্থা হয় ।
-আর আশেপাশের বাড়ি দিয়ে তোর কি কাজ?
আমরা যে বাড়ির জন্য এসেছি সেটা ভাল করে দেখ । ভিতরে চল…

আসলে শফিকের কথাই ঠিক । ওরা যে বাড়িরসামনে দাড়িয়ে আছে সেটা দেখলে যে কেউ বলবে যে দুইদিন আগে রঙ করা হয়েছে । আরও কিছু চিন্তা করার আগেই শফিক ওকে নিয়ে বাড়িটির দরজার সামনে এসে দাড়ালেন । একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা পুরো এলাকাটাকে ঘিরে রেখেছে । শফিক পকেট থেকে একটা কলম আর নোটপ্যাড বের করল । ”এগুলো দিয়ে কি করবি?”, জানতে চাইল নাজমুল । ”দেখ না কি করি!”, শফিকের সপ্রতিভ উত্তর । দরজায় কোন কলিংবেল নেই তাই শফিক হাত দিয়ে নক করতে থাকলো । চারবার নক করার পর একটা মাঝবয়সী ফর্সা ছেলে দরজা খুলে উঁকি দিল ।
-কি চাই?
-আমরা রিপোর্টার । একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে রিপোর্ট করতে এসছি……শুনেছি এ বাসায় নাকি অনেক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে ।
-শফিক…তুই…
ইশারায় নাজমুলকে চুপ থাকার নির্দেশ দিল শফিক ।
-বাসায় ঢুকতে পারি?
ছেলেটাকে একটু বিভ্রান্ত দেখাচ্ছে ।
-হ্যা…আসুন…না…ভিতরে এসে বসুন ।
শফিক আগে এবং নাজমুল সাহেব তার পিছনে ভিতরে ঢুকলেন । বাসার ভিতরটা দারুন পরিষ্কার । দেখলে মনেই হয় না এটা কোন ভূতুরে বাসা । বিলাসবহুল একটা বাসা বলা চলে । ওদেরকে
এনে সামনের রুমের সোফায় বসাল । আশপাশটা ভাল করে দেখতে ব্যাস্ত শফিক এবং নাজমুল সাহেব । ছেলেটা উঠে ভিতরের রুমে যাচ্ছিল এমন সময় শফিক বলে উঠল ।
-এই শোন, তোমার সাথে আমাদের কিছু কথা ছিল ।
-জ্বি, বলুন ।
ছেলেটা তাদের সামনে এসে বসল ।
-না, আমরা রিপোর্ট করতে এসেছিতো তাই কিছু তথ্য দরকার ।
-বলুন কিভাবে আমি সাহায্য করতে পারি?
ঘন্টাখানেকের মধ্যে এ বাড়ি স¤পর্কে সব কিছু জেনে নিল শফিক এবং নাজমুল সাহেব । ছেলেটির নাম নোমান, ভার্সিটি পরীক্ষার্থী । এ বাড়িতে থাকার কারন জিজ্ঞাসা করা হলে বলল যে এটা তার বাপ দাদার ভিটেমাটি । ওর মা অনেক আগেই মারা গেছে । তাই ও আর ওর বাবা এ বাড়িতে থাকে । আশেপাশের বেশির ভাগ বাসাই খালি । কারন তান্ত্রিকের ভয়ে এদিকে তেমন কেউ থাকে না । কিন্তু ওর বাপ দাদার বাড়ি বলে কথা, কেউ এ ভূতুড়ে বাসা কিনবেও না যে বিক্রি করবে । বাবা সরকারি চাকরী করে । তান্ত্রিকের কথা বলতে ও বলল এ ব্যাপারে ও শুনেছে কিন্তু ওর চেয়ে ওর বাবা এর ব্যাপারে ভাল বলতে পারবেন আর ওর চোখে তেমন কোন অদ্ভুত ঘটনা এ পর্যন্ত চোখে পড়েনি । রান্নাঘরের সুরঙ্গ স¤পর্কে বলল ওটা অনেক আগেই সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । নাজমুল সাহেবের এ কথাটা বিশ্বাস করতে একটু কষ্ট হচ্ছিল । সে হঠাৎ করে ছেলেটাকে বলে উঠল রান্নাঘরটা একটু দেখতে পারি?ছেলেটা তাদেরকে রান্নাঘরে নিয়ে গেল । ডায়রীতে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে সে জায়গায় তাকিয়ে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে একটা সুরঙ্গ ছিলো । হাঁপ ছেড়ে বাঁচল নাজমুল সাহেব । এখন আর কোন ভয় নেই । হাতঘড়িতে ৯টা বাজতে দেখে শফিক আতকে উঠে । ওদেরকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে । যেহেতু ওদের জানার মত আর কিছু নেই তাই ওরা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হল ।
-তোমাকে কে তো অনেক্ষন বিরক্ত করলাম…আমরা এখন আসি তাহলে ।
-সেকি আপনারা যাচ্ছেন কোথায়?……আমি আব্বুকে কল দিয়েছি…কিছুক্ষনের মধ্যেই এসে পড়বেন । আব্বুর কাছ থেকে তান্ত্রিক স¤পর্কে আরও ভালভাবে জানতে পারবেন ।
-না…তার …দরকার নেই…
-আপনারা চলে গেলে আব্বু কিন্তু রাগ করবেন । আপনাদের বাসায় যাওয়া নিয়ে চিন্তা তো । আব্বু বলেছেন আজ আপনারা আমাদের সাথে খাবেন আর খাওয়ার সাথে সাথে তান্ত্রিকের ব্যাপারেও জেনে নিতে পারবেন ।
নাজমুল সাহেব একটু আপত্তি করতে চাইলেও শফিক কেন জানি বলল, ”ঠিক আছে তোমার বাবাকে
তাড়াতাড়ি আসতে বল, আমরা তার সাথে দেখা করে যাব । কথাটা শুনে ছেলেটা বেশ খুশি হল ।
-আপনারা সোফায় বসে টিভি দেখুন…আমি একটা কাজ ফেলে এসেছি…ওটা শেষ করে আসি ।
ছেলেটা যাওয়ার পর আধঘণ্টার মত হয়ে গেছে । বসে বসে টিভি দেখছে ওরা দু’জন । ডায়রীটার ব্যাপারে কথা শুরু করল শফিক ।
-দেখলি, ডায়রীটার পুরা ঘটনাই ভুয়া ।
-তাহলে বেটা এই সুরঙ্গ স¤পর্কে কিভাবে লিখল?
-আরে মানুষের কাছ থেকে হয়ত শুনছে…তারপর বানায়ে যা মাথায় আসে লিখছে ।
-ও…
-দোস্ত, তুই বস…আমার একটু টয়লেট চাপছে…টয়লেট কোনদিকে ওইটা তো জানি না…যাই পোলাটারে জিজ্ঞাসা করে আসি ।
টিভিরুম থেকে উঠে চলে গেল শফিক ।


শফিক চলে যাবার প্রায় ১৫ মিনিট হয়ে গেল । অথচ এখনো ফিরে এল না । ভীষন অস্বস্তি বোধ করছেন নাজমুল সাহেব । অনেকক্ষন ধরেই কাঁচা মাংসের একটা মৃদু গন্ধ তার নাকে ধাক্কা মারছিলো । গন্ধটা তার কাছে গরুর মাংসের বলে মনে হয়েছিল । কিন্ত ভালভাবে লক্ষ্য করে বুঝতে পারলেন স্বপ্নে তিনি কাঁচা মাংসের যে গন্ধটা পেতেন এটার গন্ধটা অনেকটা সেই রকম । ভীষন ভয় তার হতে লাগল । হঠাৎ কেন জানি মনে হচ্ছে এ পুরো বাসায় তিনি একা । আরেকটা ব্যাপার টোকা দিল তার মাথায়, ”আচ্ছা এগুলা শফিকের প্ল্যান না তো?হয়ত শফিকই ওই ছেলেটাকে ভাড়া করে এনেছে । ”আর ভাবতে পারল না সে । এমন সময় ভিতর থেকে একটা চিৎকার শোনা গেল । নাজমুল সাহেব চমকে উঠলেন । পালিয়ে যাবেন কিনা ভাবছেন এমন সময় তার মনে হল পিছন থেকে কেউ তাকে লক্ষ্য করছেন । বরফের মত যেন জমে গেলেন । বুঝতে পারছেন না পিছন দিকে তাকানো উচিত নাকি না । ঘামে পুরো গেঞ্জি ভিজে গেছে । একসময় ঠিক করলেন যা হবার হবে পিছন দিকে একবার ফিরে দেখি, হয়ত কিছুই থাকবে না । ঢোক গিলে ধীরে ধীরে মাথা পেছন দিকে ঘুরাতে শুরু করলেন । হঠাৎ প্রচন্ড আঘাতে মাথাটা কেমন যেন ঘুরে উঠল । এরপর শুধু অন্ধকার… ।


সেই পুরোনো স্বপ্ন । হুরপরী তার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে । যখন হুরপরীর কন্ঠ শফিকের কন্ঠ বলে মনে হল তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি স্বপ্নের জগতে আছেন । শফিক অনেক্ষন ধরেই তাকে ডাকছিল । হুঁশ পুরোপুরি আসতেই লক্ষ্য করল যে তার হাতদুটো পিছমোড়া করে এবং পাগুলো বাধা । একই অবস্থা শফিকেরও । তাদের দু’জনকে দু’জনের দিকে পিঠ করে রাখা হয়েছে । কি থেকে কি হল বুঝছে না নাজমুল । চারিদিকে চোখ বুলাতেই সব বুঝে গেল সে । একই সাথে রক্ত হিম হয়ে গেল । ডায়রীতে বর্ণীত সেই তান্ত্রিকের ঘর!শত শত ডিমলাইট চারিদিকে জ্বলছে । রয়েছে আরও কিছু ভয়ংকর মূর্তি । স্বপ্ন দেখছে নাকি বুঝল না সে । অনেকগুলো প্রশ্ন ভিড় করেছে তার মনে ।
-নাজমুল…এই নাজমুল…শুনতে পাচ্ছিস?
-হু, কিন্তু…
-বুঝছি, তুই অনেকগুলো প্রশ্ন করতে চাচ্ছিস…এই তো?
-একটু আগে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নোমান দিয়ে গেছে । ………আমি প্রথমেই একটু সন্দেহ করেছিলাম যখন দেখলাম রান্নাঘরে কোন খাবার নেই । আমি যখন টয়লেটের জন্য উঠে আসার ভান করে আসলে সবগুলো রুম চেক করতে চাচ্ছিলাম । একটা শব্দ পাচ্ছিলাম ডানদিকের রুম থেকে । ডানদিকের শেষ রুমটাতে গিয়ে সবচেয়ে অবাক হলাম…
-কি দেখলি?
-দেখলাম আরেকটা রান্নাঘর!আসলে এই বাসায় দুইটা রান্নাঘর ।
-তারমানে রান্নাঘরটার পাশেই এই ঘর?
-হুম…
-তার মানে নোমানই সেই লুসিফার উপাসক?
-হ্যাঁ ।
-ও এখন কই?
-কি জানি?কোথায় যেন গেলো…
-আচ্ছা, নোমান ৪০-৩০ বছর ধরে…
-ও লুসিফারের উপাসনা করে এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে ও অমরত্ব লাভ করেছে ।
-বাহিরের কেউ ব্যাপারটা খেয়াল করে নি?
-কিভাবে করবে?ও বাসা থেকে বেরই হয়না ।
-তাহলে, খাবার দাবার…
-এখনো বুঝস নাই?…ও এইসব মানুষ বলি দিয়া কি ফালায়া রাখে?তোর কি মনে হয়?
হঠাৎ প্রচন্ড বমির উপক্রম হলো নাজমুল সাহেবের । সব বুঝে গেছেন উনি…রুমে থাকতে যেই কাঁচা মাংসের গন্ধটা পাচ্ছিলেন সেটা আর কিছু না………মানুষের মাংসের গন্ধ ছিলো ।
-কিন্তু, মশলাপাতি?
-আরে ও কাচাই খায় ।
বমি আর আটকে রাখতে পারলেন না নাজমুল সাহেব । হড় হড় শব্দ করে রুমের কিছুটা ভিজিয়ে দিলেন ।
-নাজমুল, …এই নাজমুল…
-হ্যা…হ্যা
শফিকের ডাকে সৎবিৎ ফিরে পেল সে ।
-দোস্ত, এখন আমাদেরকে যে করে হোক এখান থেকে পালাতে হবে…তোর কাছে কিছু আছে ।
ডান পকেটে রাখা ছোট্ট ছুরিটার কথা মনে পড়ল নাজমুল সাহেবের ।
-হ্যা, দোস্ত দেখ তো তুই আমার ডান পকেটে হাত ঢোকাতে পারিস কিনা । ওখানে একটা ছুরি আছে ।
একটু কসরৎ করতেই নাজমুলের ডান পকেটে দড়ি দিয়ে বাধা দুটো হাতই ঢোকাতে পারল শফিক । দুই হাত একত্র করে বের কওে আনল সেটা ।
-শফিক, এবার এইটা আমার দুই হাতের দড়ির মাঝখানে চালা…
দেরী না করে কাজ শুরু করল শফিক । ধীরে ধীরে কাজ হচ্ছে বুঝতে পারলেন নাজমুল । পনের মিনিটের মধ্যে দড়ি কাটা প্রায় শেষ করে এনেছে এই অবস্থায় রুমে ঢুকলো নোমান । শফিক ছুরিটা তার দুই হাতের তালুতে এমন ভাবে রাখল যেন নরখাদকটা তা দেখতে না পায় । নোমানের এক হাতে *চেইন স এবং আরেক হাতে কিছু জড়িবুটি ।
-ও, হুশে এসেছ তাহলে তুমি…ভালোই হল । জীবন্ত অবস্থায় বলি দেয়ার মজাই আলাদা ।
নোমান জড়িবুটি দিয়ে তৈরী দুটো মালার একটি নাজমুল সাহেব এবং আরেকটি শফিকের গলায় পড়িয়ে দিল । হাতের চেইন স টা দেখিয়ে বলল । আগে কিরিচ দিয়ে বলি দিতাম । কিন্তু ওটা দিয়ে আর মজা পাই না । তাই এটা পার্সেল করে আনিয়েছি । এটা দিয়ে মারার মজাই আলাদা । গায়ে লাগার সাথে সাথে রক্ত মাংসগুলো ছিড়ে ছিড়ে যায় । ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয় । এক ঝটকায় চেইন স টা চালু করল নোমান । গো…গো…বীভৎস শব্দ করে চলতে থাকলো ওটা । বুকটা ধক করে উঠল নাজমুলের নোমান প্রথমে ওর দিকেই এগিয়ে আসছে । ওর চোখে উন্মাদের যে নেশা খেলা করছে তা দূর থেকেই বুঝতে সমস্যা হলো না নাজমুলের । নাজমুলের প্রায় কাছে চলে এসেছে নোমান । হাতে চেইন স টা বিপদজনক ভঙ্গিতে চলছে । ঢোঁক গিলল নাজমুল । ওফফ…… । লোডশেডিং হয়েছে বুঝতে পেরে এক মুহূর্ত দেরী করল না নাজমুল । হাত দুটো জোরে টান দিতেই দড়িটা ছুটে গেল । সঙ্গে সঙ্গেই অন্ধকাওে আন্দাজে মাথা দিয়ে গুতো দিল নোমানের পেটে । তবে শেষ রক্ষা বোধ হয় হল না । অন্ধকারে মাংস ছিড়ার এবং শফিকের চিৎকার শোনা গেল ।


এর মধ্যে দু’মাস পার হয়ে গেছে । নাজমুল সাহেব ও শফিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ২-৩ টা পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল । কিন্তু কিছুদিন পর সব আবার আগের মতো হয়ে গেল । ওদের অস্তিত্বেও কথা ধীরে ধীরে মুছে গেল সবার মন থেকে ।


ভূতুড়ে বাসাটিতে কাঁচা মাংস দিয়ে ভোজন পর্ব স¤পন্ন করছে নরখাদক । ফ্রিজ ভর্তি কাঁচা মাংসের কথা ভেবে অজান্তেই হেসে উঠল । ভোজন স¤পন্ন করে আয়নার সামনে এসে দাড়ালও । আয়নায় নিজের চেহারা দেখে হাসি ফুটে উঠল নাজমুলের মুখে । তাকে এখন সাহেব বলা মানায় না । দু’মাস আগের ঘটনাটা ¯পষ্ট মনে আছে তার । সেদিনকার ঘটনায় অন্ধকাওে নাজমুল যখন নোমানকে মাথা দিয়ে গুতো দেয়ার পড়ে চেইন স টা শফিকের কোলে পড়ে । ফলে তৎক্ষনাত শফিকের নিন্মাংগ অনেকগুলো ছোট মাংসের দলায় পরিণত হয় । অন্ধকারে হাতড়ে ভাগ্যক্রমে চেইন স টা নাজমুলের হাতে এসে পড়ে । অন্ধকারে এলোপাথারি ঘুরাতে থাকলে আরও কয়েকবার আর্তনাদ শোনা যায় । সেই মুহূর্তে কারেন্ট এসে পড়ে । অর্ধাংগ নিয়ে বেঁচে থাকা শফিক এবং সারা রুমে ছিটিয়ে থাকা নোমানের মাংসের দলার দৃশ্য দেখে সেই মুহূর্তে নাজমুল অজ্ঞান হয়ে যায় । জ্ঞান ফেরে কিছুক্ষনের মধ্যেই । ঠান্ডা মাথায় ব্যাপারটা চিন্তা করতে বসল নাজমুল । আধ ঘণ্টার মাথায় সে পুরো ব্যাপারটার সমাধান পেয়ে যায় । এখন সে এখান থেকে চলে গেলে পরে পুলিশ ঠিকই তাকে ধরে নেবে । নানান ধরনের ঝামেলা হবে । যা হওয়ার তাতো হয়েই গিয়েছে । নোমানের আইডিয়াটা খারাপ লাগেনি তার । তারচেয়ে একটু কঠিন হলেও নতুন জীবনধারার সাথে মানিয়ে নিলে একটা জিনিস সে অতিরিক্ত পাবে । আর তা হল অমরত্ব । এ বাসায় নিখোঁজ থাকলে পুলিশ তাকে খুঁজে পাবে না । আর তার তো বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না । তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল সে । দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেল শফিকের অর্ধমৃত দেহের দিকে এগিয়ে গেল । শফিক তখনও জীবিত ।
-না…জ…মু…ল…
-দেখ দোস্ত…আমার আর কিছু করার ছিল না । কথাটি বলে আর দেরী করল না নাজমুল । চেইন স চালিয়ে শফিকের বাকি দেহটা টুকরো টুকরো করলেন । যাক গে ওসব আর মনে করার দরকার নেই নাজমুলের । মানুষ মারতে গিয়ে নোমান ওদের কাছ থেকে পাওয়া টাকাগুলো এক জায়গায় জমিয়ে রেখেছিল । সেটা খুজে পেতে বেশি সময় লাগেনি নাজমুলের । হোম ডেলিভারির মাধ্যমে কিনে আনা নতুন ডীপফ্রিজের কাছে গিয়ে দাড়াল । একটানে তার ডালাটা খুলে ফেলল । নিশ্চিন্ত হলো সে । ফ্রিজভর্তি কাঁচামাংস । আরও এক মাস নতুন শিকার ছাড়াই চলবে ।
*চেইন স=এক ধরনের চেইন বিশিষ্ট ইলেকট্রিক করাত যা মোটা গাছ কাটতে ব্যবহ্রত হয় ।

অদ্ভুতুড়ে গল্প” নিয়ে একটি মন্তব্য

মন্তব্য করুন