পৌনঃপুনিক জীবনে

আছি কোনরকম, যদি বলো একে থাকা; তবে আছি কোনরকম এক নিরন্তর বেঁচে থাকা । বেঁচে থাকার আবর্তে, প্রতিটি সকালে ঘুম ভাঙা; জীবনের একঘেয়ে অনুভবে শার্ট-প্যান্ট-মোজা পড়া, তারপর গলায় দড়ি, পকেটে মোবাইল আর দুটো পয়সা ঠেসে, নেতিয়ে পড়া বাসে হল্লা করে ঝুলে অফিস যাওয়া । জীবনের খোঁজ করছো তো! এটাকেই নাহয় জীবন বলো ॥ সকালে না খাওয়া পেটে […]

এমনি কবিতা – ৫

অনাদিপ্রান্তের প্রকৃষ্টপ্রলাপ হতোদ্যম আপ্তবিলাপ কিংকর্তব্য বিতাং বাক তরুপল্লবের চারুবাক তোমার আমার বর্ষণরাগ পূর্বরাগের আবিরবরণ মেষশাবকের আদুল দল উত্তরায়ণের সৌরপ্রতাপ নবশস্যের প্রাচীণডাক সকলগৃহে, পারসিক গালিচার তামুকখাওয়া আড্ডাঘরে দ্বিপ্রাহরিক অচলবোল পুঁথিপাথের কালিক ডোল । কস্মিনকালে তোমার আমার সাংবার্ষিক সাড়ম্বর অচিনবোল; রুবেলা রতন, ঝিনুক কোমল কমল করবী পবন ।

একটি বিলাই বিষয়ক রূপকথা

একদা কতিপয় দেশে কতিপয় বিলাই বসবাস করিত । বিলাইরা সুখে শান্তিতে ম্যাঁও ম্যাঁও করিত ও দিনকাল যাপন করিত । আগে বিলাইদের কোন মালিক ছিল না । একসময় বিলাইদের মালিকের আবির্ভাব হয় । বিলাইদের মালিক প্রথমপ্রথম বিশেষ আদরযত্ন করিত না; বিলাইও ঠিকমত মালিকের আদর করিত না । একদিন, মালিকের মাতা ব্যাপারটি দেখিতে পাইল আর বিলাইদিগকে আদরযত্ন করিতে নির্দেশ দিল; মালিক বদলাইয়া […]

বরফ চড়ুই

তুষার চাদরে ঢাকা হল পৃথিবী । এরমাঝে ইতি উতি এদিক সেদিক উড়াল দেয় কালচে চড়ুই, এডাল থেকে সেডালে, চাল থেকে দেয়ালে । তুলতুলে সাদা ধবল তুষারে আলতো করে বসে বরফপান করে উতলা চড়ুই । চড়ুইয়ের ছুটোছুটিতে চঞ্চল হয় মুষলধারে পরতে থাকা বরফের স্ফটিকদল, তখন খানিক ভাবে — তারপর আবারো ঝরতে থাকে; একঘেয়ে ম্যাড়ম্যাড়ে বৃষ্টির মত, ম্যাড়ম্যাড়ে বরফপাতও । সারাদিন, […]

লাল পদ্ম পুকুর

পদ্মফুলের কথা বললে আমার একটা পুকুরের কথা মনে পড়ে — লালপদ্মপুকুর । পুকুরটা ছিল দেয়ালে ঘেরা, কেমন যেন একটা মিষ্টি কমলা রঙের দেয়ালঘেরা ছিল সে পদ্মপুকুর । পুকুরের পাশ দিয়ে দুই-তিনটা বেঞ্চি ছিল; কখনো সখনো আমি বেঞ্চগুলোতে গিয়ে বসতাম, খুব সকাল বেলায়; যখন পাখিগুলো ঠিকমত জেগে ওঠেনি । বসে থাকতাম, আর ভাবতাম । কী নিয়ে ভাবতাম আমি নিজেও জানি […]

আজব নদী

একটা নদী ছিল — লাল পাথরে শান বাঁধানো ঘাট ছিল তার । নদীটা আজব ছিল, নদীর পানি ছিল স্তিমিত আর স্বচ্ছ কেমন যেন একটা সুমধুর স্বাদু পানি তার । নদীর উপর দিয়ে কখনো কখনো আলতো চঞ্চল বাতাস বয়ে যেত, নদীর পানি ছুঁয়ে ছুঁয়ে । শান্ত সে নদীর থেকে রূপালী কিছু মাছ, প্রায়শই উঁকি দিত । আর কখনোবা, নীল আকাশ […]

গাংচিলের সময়

এখন সময় গাংচিলের । গাংচিল উড়ে চলে সুদূর নীলের কোন এক দ্বীপে । দ্বীপের একপ্রান্তে আছে একটি তিনকোনা ঘাট; সেখান থেকে সাঁই করে ডুব দিলে পাওয়া যাবে পরশপাথর । গাংচিল জানে পরশপাথরের খোঁজ । গাংচিল ডুব দিতে পারে না; গাংচিল বলতেও পারে না । এখন সময় তাই গাংচিলের বলতে পারার ।

ঘাসফুল

সেইদিন মেঠো পথটার বুকে দেখেছিলাম আমি অনাবিল সুখে তোমার, আমার আর সেই শুকপাখির চোখে, একটি ঘাসফুলের মাঝে একফোঁটা রক্ত । হ্যাঁ, একফোঁটা রক্তের গৌরবে সেই ঘাসফুল নাচছিল বিপুল আনন্দে — “সুদিন আসবে” । তারপর ! বহুদিন … ঘাসফুল রয় প্রতীক্ষায় ! হঠাৎ একদিন, কোন সুদূর থেকে, অগ্নিনীলিমার অভ্র ভেদ করে — শ্বেতশুভ্র স্বাধীনতার পাখি দিয়ে গেল একফোঁটা […]

তোর ভাবনায়

ঠিক কি কারনে জানি না আজ বারবার তোর কথা মনে পড়ছে; জানিনা তোকে কিভাবে বলবো! তুই যে আমার দিবস-রজনী’র ভাবনা আমার মনের প্রায় পুরোটা যে দখল করে বসলি; এখন আমার কি হবে? দিলটা ফুরফুর করে বটে প্রায়ই; কিন্তু আজকাল যে সময়ে অসময়ে ফাঁকা হয়ে যায় । তুই কি আমার মনের ভাবনা বুঝিস না? কতোদিন ধরে বলছি […]