তোমার আমার প্রেম

কত দিন কত সপ্তা’-মাস কত বছর বছর বয়ে বেড়িয়েছি তোমার সেই এক মুখ হাসিওলা ফটো, হৃৎপিন্ডের সাথে ভালোবাসার সুতো দিয়ে সেলাই করে রেখেছি যাতে তোমার ছবিটা অন্য সব ছবির মতই না যায় বেহাতে । প্রিয় হয়তো বা একদিন সেই ভালোবাসা নামের সুতোও কালের রসে ভিজে পঁচে যাবে নষ্ট হয়ে যাবে হৃৎপিন্ডের ফ্রেম তবু নষ্ট হতে পারবেনা […]

অন্ধকার শতাব্দীর শেষে

যাবে? সেই দূরে, যেখানে আমার এবং তোমার স্মৃতি আরেকটা নতুন সকাল হাতড়িয়ে ফিরছে এখনো । এক ঝাঁক কবুতর বেশে বাদুড়েরা এসে চিৎকার করতে করতে শাসিয়ে গিয়েছে- ওরা যেন আর নতুন সকাল কিংবা সূর্যের মুখ দেখতে না চায় কখনোও । যাবে? আমাদের পথহারা সেই স্মৃতি-সন্তানদেরকে উদ্ধার করতে এক জোড়া পায়রার বেশে তবে ধরো এই কড়াপরা হাত মুছে যাক […]

তোমাকে বলছি

একি তুমি এখানে এতো রাতে দাড়িয়ে নির্বাক আকাশে অপলক তাকিয়ে তারা বুঝি গুনছো? এই শোনো, শুনছো? রাত জাগা পাখিদের চিৎকার ভাসছে সবকিছু ছাড়িয়ে । জোসনার চাঁদটা কেনো এতো শান্ত কেনো এতো সুন্দর কেনো এতো মায়াবী? দেখলেই ভালোবাসা জেগে ওঠে হৃদয়ে । আমি বড় ক্লান্ত; ঘুম ঘুম চোখটা যেনো বুজে আসছে ভয় হয় এখানে একা এই রাত্রে কি […]

আবার ভিড়াও সখী

আবার ভিড়াও সখী তোমার পানসী এই ঘাটে আলতার রঙে এই দরিয়ার জল হোক লাল রক্তের মতো সেই লাল জলে ডুবুক সকাল আবার নামুক রাত শিশির ভেজানো ঘাস-খাটে । সেই তুমি এসেছিলে সন্ধ্যার কোল জুড়ে চাঁদ জোছনার মায়া-আলো সেইদিন ঝরেছে অঝোরে সাদা সাদা মেঘগুলো চলেছে স্বপ্ন ফেরি করে মাঠে মাঠে সেইদিন ভালবাসা হয়েছে আবাদ । আবার ভিড়াও সখী […]

মায়াবী হরিণ শোনো

মায়াবী হরিণ শোনো তোমাকে বলছি আমি তোমার দু’চোখে রাত অন্ধকারের কালো; চির সবুজের বনে কি খেলা খেলছো তুমি আমাকে করো না সাথী খেলাও জমবে ভালো । আমি একা বড় একা বসে আছি এই বনে শুকনো পাতার বাঁশি বাজছে করুন সুরে মায়াবী হরিণ শোনো তোমাকে বলছি আমি তুমি এ আমাকে ছেড়ে যেওনা কখনো দূরে । নির্জন বনে আজ […]

আমি আকাশ দেখতে যাবো…

(হাসপাতালের কেবিনে ব্রেন স্ট্রোকে অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা জননীর নীরব আকুতি) আমি আকাশ দেখতে যাবো… দরজাটা খুলে দাও জানালাটা খুলে দাও চোখের উপর থেকে পর্দাটা তুলে নাও । বাতাসের ভাজে ফুলেদের মধু গন্ধ যেখানে পাবো তোমরা আমাকে সেইখানে নিয়ে যাও- আমি আকাশ দেখতে যাবো । চোখের উপরে চোখেরই পর্দা এসে ঘুমোউ ঘুমোউ বলছে সর্বনেশে জিহ্বাটা […]

আজ এ মৃত্যুলগ্নে দাড়িয়ে

আজ এ মৃত্যুলগ্নে দাড়িয়ে আর কোনো আকাশ দেখিনা আমি মাথার উপর আর কোনো সাগর দেখিনা যার পানিতে মেটে অনন্ত পিপাশা আমার শূন্যতায় কি আকাশের একমাত্র সংঙ্গা; লবনাক্ততাই কি সমুদ্রের একমাত্র পরিচয়? কিন্তুু- আমার আকাশ তো ছিলো তারকাখচিত আমার সাগর ছিলো অজস্র প্রাণের আধার । আর আমি? আমি ছিলাম তারকাখচিত শূন্যতা আর প্রাণময় সাগরের মতোই দুর্বোধ্য । আজ […]

প্রবেশাধিকার চাই

তোমার জন্মের কারণ আমি জানতে চাইবো না জানতে চাইবো না একজন সুখী তোমাকে তোমার হাসি আমাকে যতই আন্দোলিত করুক জানতে চাইবো না এর পটভূমি- তবে তোমার মৃত্যূ রহস্য নিয়ে আমার আগ্রহ অসীম তোমার দুঃখ আমাকে নিমজ্জিত করে ক্লান্তিহীন গবেষণায়- ঘুমহীন রাতকে আপন করতে প্রেরণা যোগায় তোমার কান্না । তোমার আলো ! সে তো তোমারই – কিন্তু […]

মাটির গর্ভে প্রবেশ করার পূর্বেই

অসংখ্য প্রতিযোগীর সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকা শুক্র আমার পরিচয় মাতৃগর্ভের অন্তরালে একটি ডিম্বানুর সাথে মিলিত হবার আকাঙ্খায় এরকম লক্ষ লক্ষ শুক্রাণু যুদ্ধ করেছে; যার মধ্যে ছিলাম আমিও – লক্ষ মৃত্যূর ডাককে উপেক্ষা করে যখন পেরেছি জীবনের দরজায় কড়া নাড়তে তখন আর একটি মৃত্যূর সাথে লড়তে কিসের ভয়? যে সুরক্ষিত গর্ভে একদিন বেড়ে উঠেছিলাম হয়তো […]

শপথ

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দালানের ফাটলে বেড়ে ওঠা সবুজ প্রাণের শপথ- অসংখ্য হাঙরের চোখ ফাকি দেয়া মুক্তার আধার ঝিনুকের শপথ- চাপা পড়া হলুদ দুর্বার প্রথম সূর্য দেখা সময়ের শপথ- তীব্র বারুদর ঝাঁঝ বুকে নিয়ে ছুটে চলা বুলেটের শপথ- নীল আকাশ তামাটে মাটি আর দক্ষিনের বাতাস- শীতল জল পাখির পালক আর সবুজ ঘাস- যা আমার মা আমাকে দিয়েছে […]