নিরব ভালবাসা

Silent Love/বেলাল সরকার

আজ খুব সকাল ঘুম থেকে ওঠে বিথী । ভোরের পরিষ্কার আকাশ । বাড়ির মুল গেট খোলার পর অন্যান্যা কাজে মনোযোগ দেয় । মুল গেটের খুব কাছেই বিশাল একটি পুকুর পাড় । বাতাসে ভেসে আসছে তীব্র হাসনাহেনা ফুলের গন্ধ । হাত, মুখ ধুয়ে উপাসনার জন্য প্রস্তুতি নেয় বিথী । মেয়ের ঘরের দরজা সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখে দরজা খোলা । সাথে সাথে সে খোঁজ নিয়ে দেখল সুপ্তি ঘরে নেই । ভাবল হয়তো-বা বাথরুম এ গেল কিনা, অথবা আশে-পাশেই রয়েছে ।

 

এদিকে ঘড়িতে বেলা প্রায় ন’ টা বাজতে চলল । অবশেষে সে তীব্র ভাবনায় পরে গেল । আর তাই তার দেবর স্বপনকে গিয়ে ঘটনা খুলে বলল । স্বপন হলো তার ছোট দেবর । অর্থাৎ এ বাড়ির সবচেয়ে ছোট ও আদরের ভালছেলে । সে সকালে ঘুম থেকে ওঠে না । প্রায় অনেক রাত পর্যন্ত দেখিতে মুভি ও কার্টন দেখছে । অনেক রাত করে ঘুমায় ।

 

আবারও আঁচল ও চোখের পানি মিশে একাকার হয়ে গেছে স্নেহময়ী মায়ের । দুটি চোখ যেন ছানাবড়া স্থির । দাঁড়িয়ে আছে তালগাছের মতো ।

 

-হ্যা ভাই, সকাল থেকে অনেক খোজাখুজির করেও পেলাম না । তুমি একটু যাও না ভাই । স্বপন কিছু না বলে খুব দ্রুত ঘর ত্যাগ করে বেড়িয়ে পড়ল । অনেকক্ষন হাটাহাটি ও খোঁজার পর ক্রান্ত হয়ে পড়ল । পথে দেখা হলো সুবিলের সাথে । স্বপনকে বিমর্ষ দেখে বলল ।

-কিরে শরীরডা খারাপ । স্বপন বলল ।

-নারে তেমন কিছু না ।

 

এদিকে বিথী তার স্বামী বাড়ি আসতেই, হাতে মেয়ের চিঠিটা ধরিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল । মেয়েটি তার আদরের ও বড় ভালবাসার পাত্র ছিল । এর পর তিনি চিঠিটি হাতে নিয়ে ভীষণ চিন্তায় ছেড়ে যাওয়া মেয়ের চিঠিটি পড়তে লাগল, তাতে লেখা ছিল “মা-বাবা, প্রথমে আমার একরাশ ভালবাসা নিও, জানি তোমরা আমাকে অনেক ভালবাস । আর এও জানি যে তোমরা আমাকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে পারবে না । কিন্তু তোমরা আমায় ক্ষমা করে দিও, কারণ আমি যে বড়ই একা আর আমাকে যে ভালবাসে সে আমার চেয়ে এ পৃথিবীতে আরও বড় একা । বাস্তবে তোমরা আমার ভালবাসার মানুষটিকে মেনে নেবে না, আর তো আমি তোমাদের ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হলাম । পারলে আবারও আমায় ক্ষমা করে দিও”-ইতি ।

তোমাদের স্নেহের

কন্যা সুপ্তি ।

আমি বেলাল সরকার।থাকি বগুড়া নাটাইপাড়ায়। আামর জন্ম একটি নিম্নমধ্যবৃত্ত ঘরে। জীবনের প্রতিটি বাঁকে আমি বুঝেছি দারিদ্রতা কাকে বলে। হাইস্কুল লেভেল থেকে টুকিটাকি কাজের পাশাপাশি পড়ালেখাটা আজঅব্দি চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি কবিতা ভালবাসি চিরকালই। এই কবিতার টানে আমাকে মাঝে মাঝে মনে হয় ঘরে বসে না থেকে দুরে কোথাও চলে যাই। কিন্তু একমাত্র মায়ের কারণে আমি কোথাও যেতে পারি না।কারণ আমি নিজের অজান্তে অনেক বেশি ভালবাসি মাকে।

মন্তব্য করুন