হার না মানা এই আমি (সেইই অনুপ্রেরনার গল্প)

অনুপ্রেরনা দিতে আসলাম, কারন অনুপ্রেরনার মার্কেট ইদানিং ভাল চলছে । নিজে সফল হলে সবাইকে উপদেশ দিয়ে খুব আরাম আরাম লাগে । অনুপ্রেরনা দিলে সবাই খুব হাততালি দেয়, লাইক দেয়, শেয়ার দেয় । গরু ছাগল হনুমান গন্ডার বেবুন সবাইকে অনুপ্রেরনা দেই যে এইতো আরুকটু চেষ্টা করো মানুষ হতে পারবা । আরে আমিওতো আগে ছাগল ছিলাম, দেখো এখন কি দিব্যি মানুষ আমি দেখো, দেখে একটা লাইক দাও । এখন আমি অনেক ভাল মানুষ হয়ে গেছি, তোমরা চেষ্টা করলে আমার মতো কোনোদিন হতে পারবানা যদিও আমি অনুপ্রেরনা দেওয়ার জন্য বলি যে আমার মতো হতে পারবা, এতে খুব বেশি খুশি হওয়ার কিছু নেই, কারন আমার মতো জিনিয়াস হওয়া অসম্ভব ।

জীবনে লেগে থাকলে কিনা হয়, একসময় যা অসম্ভব মনে হয় তাই পায়ের কাছে এসে একদম বসে থাকে একদিন । যা মনে হবে যে আর যাই হোক আমার দ্বারা অর্জন সম্ভব না, তাই সম্ভব হয়ে এমনভাবে সম্ভব হয়ে যাবে মনে হবে যেনো এইটা না হওয়াটাই যেনো অসম্ভব ঘটনা । এই আমিও একদিন ভেবেছিলাম আর যাই হোক এই জিনিষটা বোধ হয় জীবনে পাওয়া হবেনা । কতোদিন গেছে এইটার ভাবনায়, যে কখন হাতে পাবো, একসময় মনে হচ্ছিলো আর বোধ হয় পাবোনা, কিন্ত আজ আমার একদম খুবই কাছে এবং যখন খুশি তখন ব্যবহার করতে পারি ।

খুব ছোটোবেলায় (একদম ছোটোও না) কয়েকবার দেখছিলাম, কিন্ত বড় হওয়ার পরেও অনেকদিন মাথায় ঘুরতো । কিন্ত তখনো ইন্টারনেট এতো এভেইলেবল হয়নি, বিভিন্ন সিডি ভিসিডীর দোকানে খুজে একদম রিক্ত হস্তে ফিরে আসতাম, তখনি আস্তে আস্তে ইন্টারনেট এভেইলেবল হলো । গুগলে সার্চ দিলেই নাকি সব পাওয়া যায়, কিন্ত এই জিনিষ যা খুজছি হুবুহু তা আর পাইনা । এরপর আরো অনেকদিন পার হয়ে গেলো, অনেক নতুন ওয়েবসাইট এলো আর গেলো । জিপির গরুর গাড়ি নেট আসলো, এরপর আসলো বাংলালায়নের মোটর গাড়ির খোলসে ছাগলের গাড়ি, এরপর ব্রডব্যান্ড নামক জমিদার হারানো ঐতিহ্য আর স্পিড ফিরে পেলো, আসলো এফ টিপি সার্ভার নামক জাদুর শহর । আসলো আরো কিছু এফ টিপি টরেন্ট সার্ভার । একদিন এফ টিপি টরেন্ট সার্ভারে খুজে পেলাম সেই মোস্তফা গেমসের বীজ গুল্লি আলা ভার্সন ।

হ্যা আমি মোস্তফার বীজ গুল্লি আলা ভার্সন পেয়েছি । তবে তাতে সিড ছিলো একটা, তাও ডাউনলোড মেরে বসে রইলাম, দিন সপ্তাহ মাস গেলো, আমার ডাউনলোড ১% ও হয়না । এইভাবে কেটে গেলো পাচ মাস, কোনো এক ভোরে কি কারনে কম্পিউটার অন করেই ঘুমাইয়া গেছিলাম । সকালে উঠে দেখি বন্ধুরা আমার বীজ গুল্লি ওয়ালা মোস্তফা নেমে বসে । আমার আবেগে চোখ দিয়ে টপাক করে পানির পৃষ্ঠটানকে উপেক্ষা করে একদলা নোনতা পানি বের হয়ে পরে গেলো । আমার চোখে ভাসছে কসাই বসকে বীজ গুল্লি দিয়ে বাটে ফালানোর সিন, ব্লেড বসকে বাটে ফালানোর উত্তেজনায় আমি দাত মাজার সিষ্টেমি ভুলে গেলাম । অল ক্লিয়ার শ্যাম্পু ব্রাসে নিয়ে দাতে লাগানোর পরে হুশ একটু আসলো যে, বীজ গুল্লি পাইছি বীজ ব্রাশ না । যারা বীজ গুল্লি ছাড়া মোস্তফা খেলছে তাদের জন্য রইলো এক বালতি করুনা ।

সুতরাং লেগে থাকলে বীজ গুল্লিও পাওয়া যায়, সুতরাং আমার ধৈর্য শক্তি, অধ্যাবসায়ের সবাই প্রশংসা করো, পাম মারো । বিদায়

হার না মানা এই আমি (সেইই অনুপ্রেরনার গল্প)” নিয়ে একটি মন্তব্য

মন্তব্য করুন