একটি ভুমিকম্পের উপাখ্যান

 ঘুম থেকে উইঠা দেয়ালে ঠেস দিয়ে ছিলাম । ঘড়ির কাটা তখন সোয়া বারোটা ছুঁইছুঁই । হাতের ঠিক বাম পাশেই শুভর কেনা নতুন টেবিল । চকলেট কালারের  স্মুথ বার্নিশ আর তার উপরের ডোরাকাটা কালো ছোপ দেখে বোঝার কোন জো নাই, সেটা মাত্র এক হাজার টাকায় কোন পুরনো বেচাকেনার দোকান থেকে নেওয়া ।   টেবিলটার সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হইল খুব সামান্য ধাক্কাতেই তা ক্যাচ ক্যাচ শব্দ করে দুলতে থাকে ।

এই মুহূর্তে অবশ্য কোন ধাক্কা ছাড়াই টেবিলটা নিঃশব্দে দুলছে । কারণটা বোঝার চেষ্টা করার আগেই জবাব পেয়ে গেলাম

শুভ :  ‘দোস্ত, ভূমিকম্প হইতাছে টের পাইতাছস’

মুহূর্তেই বুঝতে পারলাম ভূমিকম্প হচ্ছে, বেশ ভালই হচ্ছে । বোকার মত কইলাম চল নিচে নামি । পাশেই সময় বসে নির্বিকার লেপটপের বোতাম চাপছিল । আমাদের কথাবার্তা বোধহয় তার হজম হইতেছিল না । প্রায় দুই  মিনিট ধরে বোঝাতে হইল যে আসলেই কিছু একটা হচ্ছে, যার প্রমাণ পাইলাম যখন সে খুব খুশি খুশি গলায় কইল ‘চল নিচে নামি’ ।

এর পরে সাত তলা থেকে নিচে নামার আয়োজন শুরু । পথমদ্ধ্যে ঘুমন্ত সাজিদের কথা মনে হইল । বন্ধুবাৎসল্য প্রদর্শনের এমন সুযোগ তো  আর হাতছাড়া করা যায় না ।

এরপর “অবস্থার ভয়াবহতা”, বুঝাইলাম, ঘুম ঘোরে কি বুঝলে জানি না তবে খুব তড়িঘড়ি করে সে একটা  পেস্ট হাতে নিয়া আসল । গম্ভীর গয়লায়  কয় “দোস্ত একটু দাড়া দাঁতটা ব্রাশ করে নেই”
কিন্তু তার কথায় কেউই আশাহত হইল না, দিগুণ উদ্যমে আমাদের যাত্রা শুরু হইল ।   যদিও তখন ভুমিককম্পের লেশমাত্রও নাই তবু জীবন বাঁচান ফরজ বলে কথা !

#গুছিয়ে কথা বলতে জানি না, প্রানপন চেষ্টা চালাচ্ছি, হচ্ছে না, হবেও না, ব্যাপার না সবাই সব কিছু পারে না #শান্ত স্বভাবের মানুষ আমি একটু মর্ডানাইজ করলে বলতে হয় বোরিং তবে মাঝে মাঝে কোন কারন ছাড়াই চেঁচাই #গান শুনতে আর হেঁড়ে গলায় গাইতে ভালবাসি, উপন্যাস পড়তে পছন্দ করি আর মুভি দেখে সময় কাটাই #কম্পিউটার প্রকৌশলের ছাত্র আমি , বিষয়টাকে পছন্দও করি তবে কেন জানি মনে হয় ইতিহাস পড়লে আরো ভাল করতাম #একটু বোকা স্বভাবের মানুষ, তবে অরো বোকা হবার ভীষন ইচ্ছা, আসলে তারাই সবচেয়ে সুখী কিনা #আমার জীবনের ব্যাসার্ধটা ছোট আর একঘেয়ে তাই খাপছাড়া মানুষ অর খাপছাড়া কাজকর্ম করতে ভাল লাগে যদি কিছুটা হলেও তা ঘুচে #প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করি আর সহজ সরল জীবনে বিশ্বাস করি

মন্তব্য করুন