দ্বিমাত্রিক সময়

বড় একটা দম নিয়ে কীবোর্ডে ‘এন্টার’ চাপ দিয়ে আমি চোখ বুজঁলাম । বুকের মধ্যে হৃৎপিন্ডটা এত জোরে লাফাচ্ছে যে আমাকে বা হাতে বুকটা চেপে ধরতে হল । অথচ আমি নিশ্চিত জানি, বিফল হবার কোনো সম্ভাবনাই নেই । একটু আগে সেই সম্ভাবনাও আমি হিসাব করে নিয়েছি, কম্প্যুটার দেখিয়েছে ০.০০০০০২ শতাংশ ।

চোখ খুলে মনিটরের দিকে তাকিয়ে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি আমি । কম্প্যুটার দেখাচ্ছে,

The Next Prime Number –

নিচে কোটি কোটি অঙ্কের বিশাল একটা সংখ্যা । আমি স্ক্রল করে একেবারে নিচে নামলাম পৃষ্ঠার শেষটা দেখার জন্য । একদম শেষে লেখা-

Found in 0.00000001 second. Possibility to be wrong is 0.000002%.

এখন পর্যন্ত (বলা উচিত আসলে – একটু আগ পর্যন্ত) জানা থাকা সর্বোচ্চ প্রাইম নাম্বারটি প্রোগ্রামের ইনপুট হিসেবে দিয়েছিলাম আমি । পরবর্তি প্রাইম নাম্বারটি খুজে পেতে আমার অ্যালগরিদমের মাত্র এক সেকেন্ডের এক কোটি ভাগের এক ভাগ সময় লেগেছে! পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্প্যুটারের যা করতে অনন্ত কাল লেগে যাবার কথা ।

আমি চোখ বুজেঁ ঝিম ধরে বসে রইলাম । এ কী আবিষ্কার করে গেলি আরশাদ! তিন মাস আগেও এ যে ছিল আমার কল্পনারও অতীত ।

চায়ের দোকানে কথা উঠেছিল কবিতা লেখা নিয়ে, চতুর্দশপদী কবিতার কথায় সেখানে ‘মাত্রা’ সংখ্যা নিয়ে আলোচনা শুরু হল, অবধারিত ভাবেই তা চলে গেল সৃষ্টিজগতের মাত্রা বা ডাইমেনশন বিষয়ে ।

রবি ঝনাৎ করে চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে বলল, “যারা বলে যে জগৎ ত্রিমাত্রিক তাদের মুখে উষ্ঠা । ”

সিরাজ তেতে উঠে বলল, “তাহলে কয় মাত্রার আমাদের এই জগৎ? দশ মাত্রা?”

রবি বলল, “অবশ্যই না । জগৎ চতুর্মাত্রিক । ”

“সায়েন্স ফিকশন পড়ে পড়ে তোর মাথাটাই গেছে, ” অতি বাস্তববাদী সিরাজ রেগে গিয়ে বলে । “কোন প্রমাণ পাওয়া গেছে জগৎ চার মাত্রার? কোন গানিতিক সমীকরণ আছে? চতুর্থ মাত্রা কি ডিম পেড়ে আসবে?”

“অবশ্যই প্রমাণ আছে । হাইজেনবার্গ এর অনিশ্চয়তা সুত্রই জগতের চতুর্মাত্রিকতার প্রমাণ, সময়ই হচ্ছে সেই চতুর্থ মাত্রা । ”

আমি বসে বসে ওদের ঝগড়া উপভোগ করছিলাম । এই সময় সদাশান্ত আরশাদ ঠান্ডা গলায় বলল, “সময় জগতের চতুর্থ মাত্রা কিভাবে হয়? তুই আসলে জগৎ বলতে কি বোঝাচ্ছিস? এটা কি কোনো রাশি?”

রবি থতমত খেয়ে বলল, “জগৎ, মানে আমাদের এই জগত, ব্রহ্মান্ড । ”

“তো? যার কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই তার আবার মাত্রা । থোহ্ । ” আরশাদ একটা অবজ্ঞার ভংগি করে । “জগত চতুর্মাত্রিক, যার তিনটা মাত্রা হিসাব করা হচ্ছে দৈর্ঘ্য দিয়ে, আর বাকি মাত্রা হল সময়? একটা কথা হল এটা?”

“তাহলে?” রবি বোকার মত বলে ।

“শোন, দৈর্ঘ্য একটা রাশি । এই দৈর্ঘ্যের তিনটা মাত্রা দিয়ে আমরা কোন বস্তুকে সংজ্ঞায়িত করি । সেরকম সময়ও তো একটা রাশি, দৈর্ঘ্যের সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কবিহীন । ”

“কিন্তু সময়ের সাথে দৈর্ঘ্যের হিসাবেই তো আমরা গতিবেগ বের করি । ” আমি বলি ।

“হ্যা, সম্পূর্ন ভিন্ন দুটি রাশির সমন্বয়ে পুরোপুরি নতুন একটা যৌগিক রাশি । এখন কথা হচ্ছে, দৈর্ঘ্যের যদি তিনটা মাত্রা থাকতে পারে, তাহলে সময়ের কেন থাকবেনা?”

“তুই কি বলতে চাচ্ছিস?”

“এই যে ধর আমরা সৃষ্টির আদিকাল থেকে যে সময়ের কথা বলে আসছি সেটা কিন্তু সরলরেখার মত । সৃষ্টি থেকে ধ্বংস পর্যন্ত লম্বা একটা রেখা । এখন যদি এই সময়টা সরলরেখা না হয়ে আয়তক্ষেত্র হয়?”

“তারমানে তুই বোঝাচ্ছিস যে পাশাপাশি অসংখ্য সময়রেখা সমান্তরালে এগিয়ে যাচ্ছে?” রবি একমুখ ধোঁয়া ছাড়ে সিগারেটের ।

“অর্থাৎ প্যারালেল জগত । ” বাস্তববাদী সিরাজ সব বুঝে ফেলার ভংগি করে । “সেই বস্তাপঁচা থিওরী । এক সময়-জগতের পাশাপাশি অসংখ্য প্যারালেল সময়-জগত, সেই সব জগতেও আমি, তুই আমরা সবাই আছি, সেই জগতেও একজন করে নিউটন, আইন্সটাইন, যীশু-বুদ্ধ জন্মেছেন, এই তো বলতে চাচ্ছিস?”

“মোটেও তা বলতে চাচ্ছি না । ” আরশাদ টেবিলের অপর কাল্পনিক একটা রেখা টানে । “মনে কর এই আমাদের সময়, এই সময়ের পথ ধরে আমরা সৃষ্টির আদিকাল থেকে চলেছি, এখন, মনে কর সময়ের ব্যপ্তি শুধু এই সামনের দিকেই নয়, ডানে-বামেও যদি সময় প্রসারিত থাকে?”

“ডানে বামে প্রসারিত?” সিরাজ খ্যাঁক খ্যাঁক করে বিশ্রী ভংগিতে হেসে উঠল । “তাহলে তুই সামনে যাচ্ছিস কেন? ডানে-বায়ে যা, সামনে তো মৃত্যু, ডানে-বায়ে একদিকে গেলে তুই তো অমর হয়ে যাবি । হ্যা হ্যা হ্যা । ” সিরাজ দুলে দুলে হাসতে থাকে ।

আরশাদের চোখমুখ কঠিন হয়ে যায়, উঠে ধুপ-ধাপ পা ফেলে ও আড্ডা ছেড়ে বেরিয়ে গেল, আমি কয়েকবার ডেকেও ওকে ফেরাতে পারলাম না, আর চেষ্টাও করলাম না । অর জেদ আমার জানা আছে ।

“দ্বি-মাত্রিক সময়, হ্যাহ । ” সিরাজ তাচ্ছিল্য করে ।

“যাই বলিস, কথাগুলো ও কিন্তু মন্দ বলে নি । ” রবি সিগারেটে একটা সুখটান দেয় ।

“আরে ধুর ধুর, কোথাকার কোন সায়েন্স ফিকশন পড়ে এসে বুলি ঝাড়ছে । ”

 

কয়েকদিন আরশাদের কোনো খোজঁ-খবর না পেয়ে ওর বাসায় ফোন করলাম, “কিরে, কোথায় তুই কি করে বেড়াচ্ছিস?”

আরশাদ উৎফুল্ল গলায় বলল, “বাসায়ই আছিরে দোস্ত, একটা কাজ করছি, ফলাফল ভালোর দিকে ।

“শুনলাম, অফিসে নাকি যাচ্ছিস না?”

“হুঁ, চাকরিটা ছেড়া দেব । এখন রাখি রে, ব্যস্ত । ” আরশাদ লাইন কেটে দেয় ।

আমি ফোন হাতে হতভম্ব হয়ে বসে থাকি । চাকরি ছেড়ে দিচ্ছে আরশাদ, এত ভাল চাকরি! তাহলে কি বড় কোনো প্রজেক্ট পেল নাকি, কম্প্যুটার অ্যালগরিদমের উপর ওর বেশ কয়েকটা পেপার আছে, দেশে বিদেশে বেশ খ্যাতিও কুড়িয়েছে সেগুলো, কোনো বিদেশি হোমওয়র্ক আসা বিচিত্র কিছু নয় ।

 

এরপর অফিসে আমার কাজের চাপ হঠাৎ-ই বেড়ে গেল, কোন দিকে নজর দেয়ার ফুরসৎ পেলাম না । মাথার ঘায়ে কুত্তাপাগল অবস্থা এই সময় সপ্তাদুয়েক আগে হঠাৎ অফিসে ফোন এল । আমি বিরক্ত হয়ে ফোন তুললাম, “হ্যালো?

শ্লেষ্মা জড়ানো দুর্বল একটা কন্ঠ জবাব দিল, “হ্যালো, মিহির আছিস?”

“হ্যাঁ, আপনি কে বলছেন?”

“মিহির, আমি আরশাদ । তুই এক্ষুনি আমার বাসায় চলে আয় । ” ফিসফিসে মৃতপ্রায় কন্ঠ । আমি চমকে উঠে বললাম, “আরশাদ, কি হয়েছে তোর?”

“কিছু না । তুই চলে আয় এক্ষুনি । ” ফোন কেটে গেল । অফিসের কাজের মুখে লাথি মেরে আমি ছুটলাম । গুরুতর ব্যপার, সন্দেহ নেই ।

আরশাদের বাসায় ও একাই থাকে, ব্যাচেলর মানুষ, বাইরে খায়, বিরক্ত হবার ভয়ে কোন কাজের লোক রাখে না । আমি পৌঁছে কলিংবেল বাজালাম । কয়েকবার বাজিয়েও সাড়া না পেয়ে দরজায় থাবা মারলাম । আশ্চর্য, দরজা খোলা রয়েছে । আমি একছুটে আরশাদের স্টাডিরুমে ডুকলাম, আরশাদ নেই, কিন্তু বিশাল চেয়ারটায় হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আছেন, ঊনি কে? শ্বেতশ্মশ্রুমন্ডিত অশীতিপর এক বৃদ্ধ । তঁআর চোখে চোখ পড়তে বৃদ্ধ তঁআর একহাতের তর্জনী সামান্য তুলল, বহুকষ্টে কোনমতে বলল, “মিহির, এসেছিস?”

আমার হাত পা থরথর করে কেঁপে উঠল, পৃথিবীটা দুলছে । এ কে? এ কে?

“অবাক হচ্ছিস?” বৃদ্ধ কোন রকমে বলে, কথা বলতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তাঁর । “আরে আমি তো আরশাদ, কাছে আয় বোস এখানে, দাদুভাই । ” বৃদ্ধ হাসার চেষ্টা করে ।

আমি কিছু বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । ওর পাশে গিয়ে বসে হাহাকার করে উঠি, “আরশাদ, কিন্তু এ কিভাবে সম্ভব?”

“সম্ভব রে সম্ভব । সময়ের দ্বিতীয় মাত্রাটা আমি আবিষ্কার করেছি । ”

আমি থমকে যাই, “সময়ের দ্বিতীয় মাত্রা?”

“হুঁ । সেই মাত্রা ধরে ঘুরে এলাম । ”

“কি বলছিস তুই?” বিস্ময়ে আমি বৃদ্ধকে তুই-তোকারি করি ।

আরশাদ মাথা বালিশে হেলিয়ে অনেক কষ্টে থেমে থেমে বলতে থাকে, “ দুই মাস ধরে ঘরে বসে আমি ওই গবেষণাই করছিলাম । ব্যপারটা যে কত সহজ, কেন যে এটা অন্য কারো মাথায় আসে নাই! কাল রাত্রেই আমি সময়ের দ্বিতীয় মাত্রায় প্রবেশের উপায় উদ্ভাবন করি । ”

“কাল রাত্রে? কিভাবে?”

আরশাদ এ কথার জবাব না দিয়ে আচ্ছন্নের মত বলতে থাকে, “আজ সকালে আমি সময়ের দ্বিতীয় একটা মাত্রায় প্রবেশ করি, সেটা তারমানে যদি তোকে সাধ্রণ ভাষায় বুঝাতে চাই, তাহলে আমরা এখন যে সময়ে আছি তার নব্বই ডিগ্রী সমকোণে । সে যে কি এক অদ্ভুত, অপার্থিব জগত, কোনো জীবন নেই, কোনো বস্তুর সংস্পর্শ নেই, এক মহাজাগতিক শূন্যতা, মহাশূন্যতা । শুধু দূরে, এই একটা সরলরেখার মত তোদের এই সময়, ছায়াছবির পর্দার মত আমি দেখতে পাচ্ছি । আমি প্রচন্ড ভয় পেলাম । পাগলের মত আমি আমার এই চেনা সময়ের পথে ফিরে আসতে চাইলাম । কিন্তু…”

“কিন্তু?”

“কিন্তু আমি একটা সহজ কথা ভুলে গিয়েছিলাম । সময় স্থির নয়, আমরা সময়ের পথ ধরে দ্যা এন্ডের পথে যাচ্ছি না, আমরাই স্থির, সময় নিজেই চলন্ত সিড়িঁর মত আমাদেরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে । ”

“তার মানে?”

“মানে, আমি যখন সময়ের অন্য এক ধারায় পৌছলাম, তখন ওই সময়ও তো প্রবাহমান । এই প্রবাহের বিপরীতে যাওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়, এর মানে হল অতীতে যাওয়া । আমি তাই ফিরতে পারলাম না, অন্যধারার এক ‘সময়’ আমাকে টেনে নিয়ে চলল ।

একই সাথে আমি কিন্তু তোদের এই সময়ের সাথেও এগোচ্ছিলাম । ব্যাপারটা খোলাসা করি, সময় চারদিকেই প্রসারিত হচ্ছে, পানিতে ঢিল ছুড়লে চারপাশের পানির তরঙ্গের মত । ধর, সময়ের একটা আয়তক্ষেত্র পুরোটাই নদীর স্রোতের মত এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমি যেন একটা নৌকা নিয়ে নদীর আড়াআড়ি পাড় হচ্ছি, অর্থাৎ আমি কিন্তু স্রোতের সাথেও এগোচ্ছি । ”

আমি বুঝতে পারছিলাম না, “তারমানে? আসলে তো তুই নৌকায় নেই, তুই তো সময় সমুদ্রেই আছিস!”

“হুঁ, ধর একটা ঢেউয়ে চেপে আমি আড়াআড়ি যাচ্ছি, স্রোত কিন্তু তোর এই সময়ের দিকে । যাহোক পুরো ব্যাপারটাই গোলমেলে, কিন্তু তার ফলাফল হল, আমি এই সময় থেকে যখন ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছি, তখন কিন্তু এই তোরা আমার কাছে একটা বিন্দুর মত স্থির । তাহলে, ওই সময়ের পথে পঞ্চাশ পেরিয়ে আমি যদি ফিরে আসি তাহলে কী হবে বল তো?”

“কী হবে?” আমি আরশাদের মুখের দিকে তাকিয়ে পুরো ব্যাপারটা বুঝে ফেলি । “তাহলে তোর বয়স পঞ্চাশ বছর বেড়ে যাবে, কিন্তু আমরা সেই আগের বয়সেই স্থির থেকে যাব, কারণ তুই সেই একই বিন্দুতে ফিরেছিস?”

“হুঁ । ”

“কিন্তু, তুই যে বললি সেখান থেকে ফেরা অসম্ভব!”

“হুঁ, কিন্তু সে… সে যে কী এক ব্যাপার…” আরশাদ হঠাৎ হেচঁকি তোলে । ভীষণ শ্বাসকষ্টের ফাঁকে বলে, “আমার লেখার টেবিলে একটা খাতা আছে, ওতে, ওতে…” আরশাদ কথা বলতে পারে না, ওর চোখ বড় বড় হয়ে যায়, মুখ হাঁ করে নিশ্বাস নিতে চায়, পারে না । আমি ভয় পেয়ে ডাকি, “আরশাদ, আরশাদ… । ” সে জবাব দিতে পারে না, তার দম ফুরিয়ে গেছে, আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি ।

লেখার টেবিলে খাতায় আমি ভেবেছিলাম আরশাদ সবকিছু সবিস্তারে লিখে গেছে, সেখানে তা নেই, শুধু অদ্ভুত এক কম্প্যুটার প্রোগ্রাম । অনেক খুঁজে কোথাও কোনো তথ্য না পেয়ে আমি প্রোগ্রামটি খুঁটিয়ে পড়ি, কিছুই বুঝি না । শুধু শেষে আরশাদের ফুটনোটটা বোঝার মত, আরশাদ লিখেছে-

“দ্বিমাত্রিক সময়ে গমন করার ফলে জীবন না হয় বিপন্ন হয়, কিন্তু সেই দ্বিতীয়মাত্রা কি আমরা অন্যভাবে ব্যবহার করতে পারি না? কম্পিউটারে কোন কাজ করতে দিয়ে যদি আমরা সেই কাজটাকে দ্বিতীয়-মাত্রায় পাঠিয়ে দিই, অন্তিম সময়ে সেও কি আমার মত এই সময়ে ফিরে আসবে না? সে ফিরে আসবে সেই বিন্দুতে, যেখান থেকে কাজটি শুরু হয়েছিল, মানে তোমাদের চোখে কোন সময়ই লাগবে না । সত্যিই কি এমন ঘটবে? জানি না । – মিহির, তোকে ফোন করার পর প্রোগ্রামটি লিখেছি, পরীক্ষা করে দেখতে পারি নি, তুই দেখিস । ”

আমি চোখ খুললাম, টপ করে একফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ল কী-বোর্ডের উপর ।

 

[গল্পটি দ্বিমাত্রিক সময় শিরোনামেই “মৌন কথক” লেখকনামে সচলায়তনে পূর্বপ্রকাশিত । ] 

দ্বিমাত্রিক সময়” সম্পর্কে ৭টি মন্তব্য

  1. আবারো পড়লাম, আবারো ভাল্‌লাগলো! দ্বিমাত্রিক সময়ের ব্যাপারটা ঠিক কতটুকু প্লসিবল সেটা আমি জানি না । শ্রোডিঞ্জারের সমীকরণ দিয়ে সময়কে চতুর্থ মাত্রা হিসেবে দেখানো যায় কি না, তাও বলতে পারি না । তবে লেখাটা ভালো; চিন্তার খোরাকও জোগায় বটে । #কিপিটআপ

মন্তব্য করুন