একটি বিলাই বিষয়ক রূপকথা

একদা কতিপয় দেশে কতিপয় বিলাই বসবাস করিত । বিলাইরা সুখে শান্তিতে ম্যাঁও ম্যাঁও করিত ও দিনকাল যাপন করিত । আগে বিলাইদের কোন মালিক ছিল না । একসময় বিলাইদের মালিকের আবির্ভাব হয় । বিলাইদের মালিক প্রথমপ্রথম বিশেষ আদরযত্ন করিত না; বিলাইও ঠিকমত মালিকের আদর করিত না । একদিন, মালিকের মাতা ব্যাপারটি দেখিতে পাইল আর বিলাইদিগকে আদরযত্ন করিতে নির্দেশ দিল; মালিক বদলাইয়া দিল । এরপর বিলাইদিগের প্রভূত উন্নতি সাধিত হইল ।

বিলাইরা ছিল বিবিধ পদের । এক পদের বিলাই ছিল মেছো বিলাই; আরেকপদের ছিল গোঁফদার বিলাই । আর ছিল, দুধপিয়ারী বিলাই, তেলতলে বিলাই, গুজুংগাজুং বিলাই, মিঠাহী বিলাই । বিবিধ পদের বিলাইয়ের বাস ছিল আলাদা আলাদা এলাকায় । এক পদের বিলাই আর পদের বিলাইদিগকে দেখিতে পারিত না । কিন্তু, তাহারা নিজদিগের মালিককেও দেখিতে পারিত না । হঠাৎ একদিন, এক মেছো বিলাই বলিল ম্যাঁও; আরো কিছু মেছো বিলাইও কহিল ম্যাঁও ম্যাঁও । বাকি বিলাইরা কিছু কহিল না ।

আরেকদিন, এক গুজুংগাজুং বিলাই মেছো বিলাইদের সহিৎ কণ্ঠ মিলাইয়া কহিল ম্যাঁও ম্যাঁও ম্যাঁও । তারপর, একদিন কতিপয় মেছো বিলাইরা ঠিক করিল, মালিককে খামচে দিবে । করিলও তাই । মালিক চটিয়া গেল; দুমাদুম কতিপয় নানা পদের বিলাইকে মারিয়া বসিল । এরপর থেকে, মেছোবিলাই, গোঁফদার বিলাই, দুধপিয়ারী বিলাই, তেলতলে বিলাই, গুজুংগাজুং বিলাই, মিঠাহী বিলাই সকল বিলাই ঠিক করিল মালিক খেদাইতে হইবে । এক গুজুংগাজুং বিলাই বিলাইদিগের সর্দার সাজিল । আরেক গোফু বিলাই কিয়দকাল পরে আসিয়া কহিল আমিও এক সর্দার । বিলাইরা কহিল, মালিক মানিব না, বিলাইরাই বিলাইদের মালিক । বিলাইদের নিজেদের দেশ হইবেক । এক মেছোবিলাই প্রস্তাব করিল, মেছোবিলাইরা আর গোঁফদার বিলাইরা আলাদা দেশ করিবে । এই লইয়া সকল বিলাই মিলিয়া প্রচুর হল্লা করিতে থাকিল । এর মধ্যে একদিন মালিকের জ্বর হইল । জ্বর থেকে ফিরিয়া বিরক্ত হইয়া মালিক কহিল, আমি আর বিলাই পুষিব না । তারপর, বিলাইদিগের দেশ করিয়া দিল । মেছো বিলাই ও গোঁফদার বিলাইরা এক দেশ – গোঁফরাং দেশ । আর ইহাদের মাঝের এলাকায় বাসকারী বাকি সকল অঞ্চলের বিলাই মিলিয়া আরেকদেশ – ভুজুংদেশ । ভুজুংদেশের সর্দার হইল এক গুজুংগাজুং বিলাই, গোঁফরাং দেশের সর্দার হইল এক গোঁফদার বিলাই ।

গোঁফরাংদেশে, গোঁফদার বিলাইরা মেছো বিলাইদের উপর অনেক অত্যাচার করিতে লাগিল । তাই কিয়দকাল পরে, মেছো বিলাইরা কহিল, গোঁফদার বিলাইরা পঁচা, আমরা তাহাদিগের সহিৎ আর থাকিব না । প্রথম কহিল, ভ বিলাই, তারপর কহিল খ বিলাই । এরপর একে একে ক বিলাই, গ বিলাই, জ বিলাই, ত বিলাই আর সকল মেছো বিলাই কহিল আমরা আর থাকিব না, থাকিব না । তখন গোফু বিলাইদের সর্দার ছিল আগরবিলাই ও ভুটকা বিলাই । খ বিলাই আলোচনায় বসিল, আগরবিলাই ও ভুটকাবিলাইয়ের সহিৎ । আলোচনার কোন ফল হইল না । আগরবিলাই তার পেচকুন্নি বিলাই দলকে বলিল মেছো বিলাইদের পিটাইয়া সোজা করিয়া দিতে আর খ বিলাইকে বান্ধিয়া রাখিতে । পেচকুন্নি বিলাইদের যন্ত্রনায় মেছো বিলাইরা মরিয়া শেষ হইতে লাগিল । তাই, ক বিলাই, গ বিলাই, জ বিলাই, ত বিলাই আর অনেক মেছো বিলাই মিলাইয়া পেচকুন্নি বিলাইদের সহিৎ লড়াই করিতে লাগিল । মেছো বিলাইদের বল বিশেষ না থাকিলে কি হইবে, সাহস প্রচুর । তাহারা এমন পাল্টা প্যাদানি দিল যে শেষমেষ পেচকুন্নি বিলাইরা ভাগিল । মেছোবিলাইরা নিজদিগের দেশ পাইল । এই ঘটনা ঘটিল, মছলি বৎসরে ।

মছলি মৎসরের পর আর অনেক বৎসর পার হইয়া গেল । হঠাৎ, মেছোবিলাইদের দেশে কতিপয় পণ্ডিত মছলি বছরের আসল ঘটনা গবেষণা করিতে বসিল । গবেষণায়, একে একে প্রমাণ করিল যে, আসলে ক বিলাই, গ বিলাই, জ বিলাই, ত বিলাই, খ বিলাই, ভ বিলাই কেহই আলাদা দেশ চায় নাই । গবেষণায় আরও প্রমাণিত হইল যে, মছলি বছরের আগের কোনো সালে জন্মাইয়াছিল এরূপ কোন বিলাইই মেছোবিলাইদেরদেশ স্বাধীন করে নাই । সব করিয়াছে, মাছপিয়ারী নামক এক মেছো বিলাইয়ের সাঙ্গপাঙ্গ – তাহারা, কুম্ভ বৎসরে সময়ভ্রমণ যন্ত্র তৈয়ার করিয়া মছলি বৎসরে ভ্রমণ করিয়াছিল ও দেশ স্বাধীন করিয়াছিল ।

এই হইল মেছোবিলাইদের আসল উপাখ্যান ।

একটি বিলাই বিষয়ক রূপকথা” সম্পর্কে ৪টি মন্তব্য

  1. হে হে……পেচকুন্নি বিলাইদের হাতের কাছে একবার পাইলে হইত। মেছোবিলাইরা আরও একবার একহাত দেখিয়া লইতো। মাছপিয়ারী বিলাই ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের সহিত ওই পেচকুন্নি বিলাইদের কুম্ভ বৎসর হইতে মছলি বৎসর এ সময়যন্ত্রে করিয়া পাঠাইয়া দিলে তাহারা ঠ্যালা বুঝিতখন!! 😀

মন্তব্য করুন