সাধারণ ছেলেটির অসাধারণ অর্জন।

পাঠ্য বই থেকে বেশি মনোযোগ ছিল বাস্তব কাজে । দিনের বড় একটি অংশ গুগোল সার্চ নিয়ে কাটিয়ে দিত ।

আমরা যখন CGP নিয়ে যুদ্ধ করি, তখন সে ছুটাছুটি করে কাজের জন্য । পরীক্ষার যখন কাছাকাছি তখন আমরা ব্যাস্থ পড়াশুনা নিয়ে, তখন সে রাত জেগে কাজ নিয়ে ব্যস্থ ।

পরীক্ষার আগেরদিন আমাদের থেকে শিট সংগ্রহ করে পরিক্ষা দিত । এমন কি মাঝে মাঝে পরীক্ষার আগেরদিন রাতে ফোন করে জানতে চাইত আগামীকাল কি পরিক্ষা ।

ছেলেটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কনফিউসড ছিলাম সবসময় । প্রায় ছেলেটিকে বুঝাতাম ভাল করে পড়াশুনা করতে ।

একদিনঃ

আমিঃ এই ভাবে জীবন চলবে?

-কি ভাবে চলবে?

আমিঃ ভাল করে পড়াশুনা কর, তানাহলে চাকরী বাকরি পাবানা ।

  • হু

আমিঃ কি হুম? আজ থেকে ভাল হয়ে চলবা?

  • হু ।

আমিঃ দেখো, এই ভাবে চলতে থাকলে লাইফে কিছুই করতে পারবানা । টুকটাক ফ্রিলেন্সিং করে কি জীবন চালাতে পারপবা?

  • হু ।

আমি: হু মানে? পারবা? (একটু রাগ করে)

  • না । (মনেহয় আমাকে শান্ত করার জন্য)

আমিঃ কবে থেকে ভাল হবা?

  • কাল ।

আমিঃ ওকে ।

 

কিন্তু সে বদলায়নি ।

আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই অনেক চেষ্টা করেছি তাকে বদলানোর জন্য । কিন্তু পারিনি । তবে রেজাল্ট যে খারাপ হত  তা কিন্তু না । একটা এভারেজ ছিল । কিন্তু তার মেধা অনুযায়ী খারাপই বলা যায় । কারন আমি জানতাম সে একটু মনযোগী হলে টপ রেজাল্ট করা সম্ভব ছিল ।

এই ভাবে চলতে থাকে আমাদের বন্ধুত্ব । এই ভাবেই শেষ হয় একে একে সবগুলা সেমিস্টার । টপ ১০ জনের ৭ জনই হয় আমাদের সার্কেল থেকে । আমি নিজেও ভাল রেজাল্ট করি ।

খুশি মনে যাত্রা শুরু করি প্রফেশনাল লাইফে ।

এপ্লাই করি বিভিন্ন কোম্পানিতে । কিন্তু হতাস হয়ে ফিরে আসতে হয় বারবার । অভিজ্ঞতা প্রয়োজন । সবে মাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করলাম, কোথাই পাবো অভিজ্ঞতা?

এই ভাবে কিছুদিন কেটে গেল । একদিন খবর পেলাম, সেই ছেলেটি চাকরী পেয়েছে । শুনলাম বেস ভাল চাকরী । খবরটি শুনে ভাল লাগলো ।

এর কিছুদিন পর দেখা হল তার সাথে ।

আমিঃ চাকরী পেলা ট্রিট কই?

-ছাইরা দিছি ।

আমিঃ মানে?

-মানে চাকরী ছাইরা দিছি ।

আমিঃ কেন? চাকরীটা ভাল ছিল, ছারলা ক্যান?

  • ভাললাগে না ।

আমিঃ এমন চাঞ্ছ আর আসবে? বুঝবা । সময় হারিয়ে… ।

-হু

উপরের গল্পটা ছিল অতীত ।

বর্তমানঃ আমি সেই বন্ধুর কোম্পানিতে চাকরী করি । সে এখন একজন সফল ব্যাক্তি ।

 

 

মন্তব্য করুন